০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

লাল গালিচার আড়ালে নতুন বিশ্বরাজনীতি

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন। তার সপ্তাহ না পেরোতেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গেলেন চীনে। পুতিনকে ঠিক সেভাবেই স্বাগত জানানো হয়েছে, যেভাবে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছিল।

পুতিনের জন্য ও লাল গালিচা বিছানো হয়। ২১ তোপে স্বাগত জানানো হয়েছে। শিশুরা রুশ ও চীনা পতাকা নাড়িয়ে বলে ‘আপনাকে স্বাগত’। তবে একটাই পার্থক্য ছিল। ট্রাম্পকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছিলেন চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং। আর পুতিনকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

এরপর গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, দুই দেশ ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত সহযোগিতা’ আরও গভীর করেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব এখন ‘ক্রমেই বিশৃঙ্খল’ হয়ে পড়ছে এবং ‘আধিপত্যবাদ সর্বত্র ছেয়ে গেছে’। শি জিনপিং চীন ও রাশিয়াকে একসাথে ‘আরও ন্যায়সংগত ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

পুতিনের এই চীন সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর ঠিক আগেই ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বহুল আলোচিত শীর্ষ বৈঠকটি বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও এর পরিচালন ব্যবস্থার প্রসারে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন চীন ও রাশিয়া উভয় দেশই ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজস্ব সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এই দুই দেশসহ বিশ্বের বহু জাতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

কিন্তু এবার রাজনৈতিক খেলা ভীন্ন। ট্রাম্পের পদক্ষেপ, পুতিনের আগমন, এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাগত—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্ব মানচিত্রে শক্তির নতুন রূপ। সব মিলিয়ে এই সফর শুধু ভিজিট নয়—এটি রাজনৈতিক দুনিয়ার একটি ইঙ্গিত, যেখানে যুদ্ধ, কূটনীতি ও প্রযুক্তি একসঙ্গে খেলছে, এবং বিশ্ব দেখছে নতুন শক্তির ছায়া।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লাল গালিচার আড়ালে নতুন বিশ্বরাজনীতি

আপডেট সময় : ০২:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন। তার সপ্তাহ না পেরোতেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গেলেন চীনে। পুতিনকে ঠিক সেভাবেই স্বাগত জানানো হয়েছে, যেভাবে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছিল।

পুতিনের জন্য ও লাল গালিচা বিছানো হয়। ২১ তোপে স্বাগত জানানো হয়েছে। শিশুরা রুশ ও চীনা পতাকা নাড়িয়ে বলে ‘আপনাকে স্বাগত’। তবে একটাই পার্থক্য ছিল। ট্রাম্পকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছিলেন চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং। আর পুতিনকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

এরপর গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, দুই দেশ ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত সহযোগিতা’ আরও গভীর করেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব এখন ‘ক্রমেই বিশৃঙ্খল’ হয়ে পড়ছে এবং ‘আধিপত্যবাদ সর্বত্র ছেয়ে গেছে’। শি জিনপিং চীন ও রাশিয়াকে একসাথে ‘আরও ন্যায়সংগত ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

পুতিনের এই চীন সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর ঠিক আগেই ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বহুল আলোচিত শীর্ষ বৈঠকটি বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও এর পরিচালন ব্যবস্থার প্রসারে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।

এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন চীন ও রাশিয়া উভয় দেশই ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজস্ব সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এই দুই দেশসহ বিশ্বের বহু জাতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

কিন্তু এবার রাজনৈতিক খেলা ভীন্ন। ট্রাম্পের পদক্ষেপ, পুতিনের আগমন, এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাগত—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্ব মানচিত্রে শক্তির নতুন রূপ। সব মিলিয়ে এই সফর শুধু ভিজিট নয়—এটি রাজনৈতিক দুনিয়ার একটি ইঙ্গিত, যেখানে যুদ্ধ, কূটনীতি ও প্রযুক্তি একসঙ্গে খেলছে, এবং বিশ্ব দেখছে নতুন শক্তির ছায়া।