লালমনিরহাটে সমবায় সমিতির অনিয়মের প্রতিবেদন: দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৯ বার পড়া হয়েছে
লালমনিরহাটে সমবায় সমিতির আড়ালে অবৈধ ঋণদান, চড়া সুদে কিস্তি আদায় ও নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) লালমনিরহাটকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।
সমিতির অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক কালবেলায় ‘গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই সমিতি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে ‘তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি’ ও ‘তিস্তা ইন্টারন্যাশনাল’-এর স্বত্বাধিকারী এম এ হাশেম ওরফে বাবুলের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানতের টাকা আটকে রাখা, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ চড়া সুদে অর্থ লেনদেন এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
একই বিষয়ে আরও কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
এরপর ‘তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ’-এর সভাপতি এবং বর্তমানে ‘তিস্তা সমবায় বাজার’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাশেম রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
মামলায় দৈনিক কালবেলার লালমনিরহাট প্রতিনিধি এস কে সাহেদ এবং নয়া দিগন্ত (ডিজিটাল)-এর প্রতিনিধি মো. জুবাইর আহমেদ খানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিআইডি লালমনিরহাটকে দায়িত্ব দেন।
‘অনিয়ম আড়াল করতেই মামলা’
মামলার বিষয়ে সাংবাদিক এস কে সাহেদ বলেন, সাধারণ মানুষের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে তুলে ধরতেই প্রতিবেদনটি করা হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর তাদের কণ্ঠরোধ এবং অনিয়ম আড়াল করতেই মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, তথ্যভিত্তিক সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তা খণ্ডন না করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত।
সাংবাদিক নেতাদের ক্ষোভ
সাংবাদিক নেতা শরিফুল ইসলাম রতন মামলাটিকে প্রতিশোধমূলক দাবি করে বলেন, সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা এ ধরনের মামলায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে এম এ হাশেম ওরফে বাবুলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।
তদন্তাধীন থাকায় মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সিআইডি লালমনিরহাট।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।




















