০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে ৬ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করছে প্রশাসন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৭১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে আগুন লাগে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গে খোঁজ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নিহতের তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রাথমিক তালিকায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বসী গ্রামের হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান (৪০), একই উপজেলার আহমদ আলীর ছেলে রমজান (৩৮), হোসেন আলীর ছেলে জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুমা (৩৫)-এর নাম রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মৃত্যুর তথ্যও ছড়িয়েছে।

তবে এসব তথ্য এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

একাধিক সিঁড়ি তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগ

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবন থেকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন ভবনে আরও চারটি সিঁড়ি থাকলেও সেগুলো নিয়মিত তালাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা একটি সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

এতে সিঁড়িতে ব্যাপক ভিড় ও হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন পদদলিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিঁড়িগুলো খুলে রাখার বিষয়ে আগেও জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, হাসপাতালে ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য এখনো প্রমাণসহ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগ ও মর্গের তথ্যের মধ্যেও মিল পাওয়া যায়নি। তাই মৃত্যুর সংখ্যা বা কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানান তিনি।

পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আহতের তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। নিহতদের তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই শেষে মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‍্যাবের কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে ৬ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করছে প্রশাসন

আপডেট সময় : ১২:২৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে আগুন লাগে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গে খোঁজ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নিহতের তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রাথমিক তালিকায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বসী গ্রামের হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান (৪০), একই উপজেলার আহমদ আলীর ছেলে রমজান (৩৮), হোসেন আলীর ছেলে জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুমা (৩৫)-এর নাম রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মৃত্যুর তথ্যও ছড়িয়েছে।

তবে এসব তথ্য এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

একাধিক সিঁড়ি তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগ

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবন থেকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন ভবনে আরও চারটি সিঁড়ি থাকলেও সেগুলো নিয়মিত তালাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা একটি সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

এতে সিঁড়িতে ব্যাপক ভিড় ও হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন পদদলিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিঁড়িগুলো খুলে রাখার বিষয়ে আগেও জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, হাসপাতালে ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য এখনো প্রমাণসহ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগ ও মর্গের তথ্যের মধ্যেও মিল পাওয়া যায়নি। তাই মৃত্যুর সংখ্যা বা কারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানান তিনি।

পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আহতের তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। নিহতদের তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই শেষে মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‍্যাবের কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।