বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য ২০২৬ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালার একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
সভাপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাড়ছে
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারাও সভাপতি প্রার্থী হতে পারবেন।
তবে সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক হবে।
যেভাবে হবে সভাপতি নির্বাচন
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী, প্রথমে ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন ক্যাটাগরির সদস্য নির্বাচন হবে। সদস্য নির্বাচন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচনের জন্য সভা আহ্বান করতে হবে।
ওই সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সভাপতিত্ব করবেন। উপস্থিত নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
তবে সভাপতি নির্বাচনের সভায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমানসংখ্যক সর্বোচ্চ ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
এ ছাড়া পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচন করতে হবে।
একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন না
প্রস্তাবিত নিয়মে একই ব্যক্তির একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই ব্যক্তি একই ধরনের দুটির বেশি এবং মেয়াদভিত্তিক ধরনের তিনটির বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না।
পাশাপাশি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারী ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না।
গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে পরিবর্তন
গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রবিধানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের সুযোগ ছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার বিধান যুক্ত হয়।
এবারের খসড়ায় সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকায় আগে বা পরে থাকার বিষয়টি কোনো অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না।
সভাপতির ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব
খসড়া প্রবিধানমালায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচিত সভাপতির কিছু ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা রহিত করার বিষয়টি রয়েছে। একই সঙ্গে একজন সভাপতি কতটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সেটিও নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগেও পরিবর্তন
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সুপারিশ করা শিক্ষক নিয়োগ করবে।
প্রয়োজনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগও থাকবে। এছাড়া এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন প্রার্থীদের নিয়োগের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত নয়। সভায় কেবল প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন পেলে সংশোধিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে তা জারি করা হবে।
























