ফারদিন হত্যা মামলার প্রতিবেদন দেয়নি সিআইডি, পেছাল ৩৭ বার
- আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬০ বার পড়া হয়েছে
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ৩৭ বার পিছিয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও অধিকতর তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তা জমা দেয়নি।
এদিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২৯ নম্বর আদালতে বিচারক আর বিরুনী মীরের সামনে প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। তবে সিআইডি প্রতিবেদন না দেওয়ায় মামলার কোনো শুনানি হয়নি। একই সঙ্গে মামলার একমাত্র নামীয় আসামি আয়াতুল্লাহ বুশরা অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।
প্রায় চার বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত
২০২২ সালের ৪ নভেম্বর ডেমরার কোনাপাড়ার বাসা থেকে বুয়েট ক্যাম্পাসের উদ্দেশে বের হন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের চার দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফারদিনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে তৎকালীন চিকিৎসক ফারহাদ হোসেন জানিয়েছিলেন, ফারদিনের মাথা ও বুকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
তদন্ত নিয়ে হতাশ ফারদিনের বাবা
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ফারদিনের বাবা নূরউদ্দিন রানা। তাঁর অভিযোগ, ফারদিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
নূরউদ্দিন রানা বলেন, ফারদিনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু তদন্তে বারবার সময় নেওয়ায় পরিবারটি হতাশ হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে ফারদিনের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি আশাবাদী হয়েছিলেন। তবে এরপরও তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।
ফারদিনের বাবা ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
























