প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইপিইউ সেক্রেটারির সৌজন্য সাক্ষাৎ
- আপডেট সময় : ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। পাশাপাশি, তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন। আন্দা ফিলিপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেন। ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়।
এদিকে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, এতে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও মানুষের বিশ্বাস শক্তিশালী হবে।
গণতন্ত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। তিনি বলেন, এই সময় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি, প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুগম করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেনি। বরং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতেও দলটি ভূমিকা রেখেছে।
গণতন্ত্রের সামনে চ্যালেঞ্জ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে তার সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার মতে, গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। একই সঙ্গে জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইপিইউর সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ
এদিকে, আন্দা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তার প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পাশাপাশি, কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন তিনি। আন্দা ফিলিপ বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নেবেন। এর ফলে আইপিইউ ও বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করেন তিনি।
নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন আন্দা ফিলিপ। তার মতে, সচেতন নাগরিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারেন। তাই গণতন্ত্র টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ সময় তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত উদ্যমী। একই সঙ্গে তারা সংসদীয় কার্যক্রমে আগ্রহী। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এ লক্ষ্যে নারীদের অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প
এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা। একই সঙ্গে পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।























