তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তর
- আপডেট সময় : ০১:৪০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬৬১ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলশিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার সদর থানা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর লালোয়া রিসোর্টের সামনে অভিযান চালিয়ে রাজুকে আটক করে পুলিশ। তিনি বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী রাজুকে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজুর সন্ধান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। পরে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে কক্সবাজারে তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয় ও সম্পর্কের সময়কাল ছিল মাত্র ১৮ দিন। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজু তাকে কক্সবাজারে নিয়ে আসেন বলে পুলিশের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রিসোর্টে অবস্থান
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে এসে রাজু ও তাজমিন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি রিসোর্টে ওঠেন। সেখানে এক রাত থাকার পরের দিন তাজমিনকে বাসে তুলে দেন রাজু।
তবে তাজমিনের হত্যাকাণ্ডে রাজুর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া।
তাজমিন হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ক্ষোভ
তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন স্কুলশিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন তাজমিন কীভাবে হত্যার শিকার হয়েছে, ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল এবং এতে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।






















