০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপি সরকার আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী: রিজভী

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৩৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিএনপি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী আমলের লুটপাট ও অরাজকতার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। দলের নেতাকর্মীদের সহনশীল আচরণ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

নেতাকর্মীদের সহনশীল হওয়ার আহ্বান

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাধারণ ভোটাররা যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখতে পান। তাদের আচরণে যেন ফ্যাসিবাদী আমলের কোনো ধরনের প্রবণতা প্রকাশ না পায়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশ থেকে অর্থ লুট করেছে, মানুষের জমি দখল করেছে, এমনকি গোয়ালঘরের গরুও দখল করেছে। গোটা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। তবে বিএনপি সেই পথে হাঁটবে না। বরং দলটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও সরকারের অংশ। তাই প্রত্যেককে সহিষ্ণুতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কে কী পেলেন বা পেলেন না, কিংবা কে কোন পদ-পদবি পেলেন—এসব নিয়ে ব্যস্ত না থেকে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

সারের ডিলার ও ঠিকাদারি নিয়ে সতর্কবার্তা

দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, সারের ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি পাওয়ার জন্য যদি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ত্যাগকে বিসর্জন দেওয়া হয়, তাহলে বড় অর্জন সম্ভব হবে না।

তিনি নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সরকারের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে দলীয় আদর্শ ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

দুর্গাপূজার মণ্ডপে পাহারা দেওয়ার আহ্বান

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা বিভিন্নভাবে নাশকতা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে নেতাকর্মীদের ঘুমহীন প্রহরীর মতো সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

রিজভী দলের নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রয়োজনীয় ডিজেল আমদানি করা যাচ্ছে না। অথচ শীতকালীন শাকসবজি ও রবিশস্য উৎপাদনে ডিজেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সরকার এসব সংকট মোকাবিলা করে মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে একসময় রান্নার চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং মিল-কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে রান্নাঘরের চুলা আবার জ্বলতে শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হান্নান শাহ ছিলেন সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক

স্মরণসভায় আ স ম হান্নান শাহের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও কর্মময় পথচলার স্মৃতিচারণ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, হান্নান শাহ ছিলেন সাহসের প্রতীক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক ব্যক্তিত্ব। ওয়ান-ইলেভেনের সময়সহ দেশের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। কারাবন্দি অবস্থাতেও দলের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠা অটুট ছিল।

রিজভী আরও বলেন, বারবার কারাগারে যাওয়ার কারণে হান্নান শাহের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়লেও তিনি কখনো নিজের দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগ, সাহসিকতা ও আদর্শ দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিএনপি সরকার আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী: রিজভী

আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিএনপি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী আমলের লুটপাট ও অরাজকতার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। দলের নেতাকর্মীদের সহনশীল আচরণ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

নেতাকর্মীদের সহনশীল হওয়ার আহ্বান

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাধারণ ভোটাররা যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখতে পান। তাদের আচরণে যেন ফ্যাসিবাদী আমলের কোনো ধরনের প্রবণতা প্রকাশ না পায়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশ থেকে অর্থ লুট করেছে, মানুষের জমি দখল করেছে, এমনকি গোয়ালঘরের গরুও দখল করেছে। গোটা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। তবে বিএনপি সেই পথে হাঁটবে না। বরং দলটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও সরকারের অংশ। তাই প্রত্যেককে সহিষ্ণুতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কে কী পেলেন বা পেলেন না, কিংবা কে কোন পদ-পদবি পেলেন—এসব নিয়ে ব্যস্ত না থেকে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

সারের ডিলার ও ঠিকাদারি নিয়ে সতর্কবার্তা

দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, সারের ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি পাওয়ার জন্য যদি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ত্যাগকে বিসর্জন দেওয়া হয়, তাহলে বড় অর্জন সম্ভব হবে না।

তিনি নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সরকারের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে দলীয় আদর্শ ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

দুর্গাপূজার মণ্ডপে পাহারা দেওয়ার আহ্বান

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা বিভিন্নভাবে নাশকতা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে নেতাকর্মীদের ঘুমহীন প্রহরীর মতো সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

রিজভী দলের নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রয়োজনীয় ডিজেল আমদানি করা যাচ্ছে না। অথচ শীতকালীন শাকসবজি ও রবিশস্য উৎপাদনে ডিজেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সরকার এসব সংকট মোকাবিলা করে মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে একসময় রান্নার চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং মিল-কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আল্লাহর রহমতে রান্নাঘরের চুলা আবার জ্বলতে শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হান্নান শাহ ছিলেন সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক

স্মরণসভায় আ স ম হান্নান শাহের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও কর্মময় পথচলার স্মৃতিচারণ করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, হান্নান শাহ ছিলেন সাহসের প্রতীক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক ব্যক্তিত্ব। ওয়ান-ইলেভেনের সময়সহ দেশের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। কারাবন্দি অবস্থাতেও দলের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠা অটুট ছিল।

রিজভী আরও বলেন, বারবার কারাগারে যাওয়ার কারণে হান্নান শাহের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়লেও তিনি কখনো নিজের দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগ, সাহসিকতা ও আদর্শ দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।