ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ ছাত্রদলের
- আপডেট সময় : ১২:৫৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি বলছে, জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রতি অবমাননার শামিল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় ছাত্রদল।
জিন্নাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিল ঢাবির শিক্ষার্থীরা
ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রদলের দাবি, ওই প্রতিবাদ পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ডাকসুকে দলীয় এজেন্ডার হাতিয়ার করার অভিযোগ
বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, অধিকার আদায় এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে।
ছাত্রদল আরও অভিযোগ করেছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে ডাকসুকে দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে একই ধারাবাহিকতার অংশ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনা ও ঐতিহ্যকে দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
ছবি অপসারণের দাবি
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে বলেন, অবিলম্বে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে।
একই সঙ্গে ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তারা আরও বলেন, ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ও ঐতিহ্য বিকৃত করার যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণাও দেন ছাত্রদলের নেতারা।





















