খাসকামরায় ডেকে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, বিচারককে শোকজ
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
খাসকামরায় ডেকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঘটনার বিচার চেয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তাদের সঙ্গে ছিলেন ভুক্তভোগী ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী। প্রতিনিধি দলটি বিচারক শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করে। মন্ত্রী বিষয়টি শুনে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কী নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রের অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলী রেলওয়ের প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই মোহাম্মদ আলী। ওই সময় বিচারক শাহিদুল ইসলামের অফিস সহকারী সাকিব আল হাসানের ব্যাগ তল্লাশি করতে চান পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশের দাবি, সাকিব তল্লাশিতে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে তাকে রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে বিচারকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এসআই মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, থানা থেকে বের হওয়ার সময় সাকিব তাকে আদালতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান এবং একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
খাসকামরায় মারধরের অভিযোগ
অভিযোগের ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট এসআই মোহাম্মদ আলীকে বিচারকের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলা হয়। এরপর মঙ্গলবার তিনি আদালতে গেলে তাকে খাসকামরায় নেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে এসআই মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, সেখানে দরজা বন্ধ করে তাকে মারধর করা হয়। আদালতের এক ওমেদার পেছন থেকে তাকে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটি একজন মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলে তাঁর দাবি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচারক তাকে ধমক দেন এবং ‘তুই-তামারি’ করেন। নিজের কোনো আচরণে বিচারক ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চাইতেও প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান এসআই মোহাম্মদ আলী।
পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার
তবে পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদালতের পিয়ন সাকিব আল হাসান। তাঁর দাবি, কমলাপুরে ট্রেন থেকে নামার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর কাঁধে থাকা ব্যাগে হাত দেন। পরে তিনি আদালতের স্টাফ পরিচয় দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সাকিবের অভিযোগ, বিষয়টি জানাতে রেলওয়ে থানায় গেলে এসআই মোহাম্মদ আলী তাঁর ওপর চড়-থাপ্পড় মারেন এবং বিচারকের সঙ্গে ফোনে খারাপ ব্যবহার করেন।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও বিচারাঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে বিচারকের কাছে আইন মন্ত্রণালয়ের শোকজ নোটিশ জারির বিষয়টি সামনে এলো।

























