তিন বছরে চার শতাধিক গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিজিএমইএ-বিকেএমইএর ৪০৫ কারখানা বন্ধ
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ১২৩টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ দুই সংগঠনের হিসাবেই মোট ৪০৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর বাইরে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর নামের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে বলেও সংসদে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
কেন বন্ধ হচ্ছে গার্মেন্টস কারখানা
কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি।
এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারা নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থার সুবিধার জন্য ছোট ও মাঝারি কারখানায় তুলনামূলক কম রপ্তানি আদেশ দিচ্ছেন।
পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিকারকদের জন্য অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তাও রয়েছে।
এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তার কথা জানান তিনি।
বাজার মনিটরিং জোরদারের কথা
সংসদে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত দাম আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে। জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

























