ইস্টার্ন রিফাইনারির ২য় ইউনিট স্থাপনে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগে বড় অগ্রগতি হয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তিনগুণ বাড়বে তেল পরিশোধন সক্ষমতা
এর আগে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ হবে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রথম ইউনিটে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা যায়। দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপিত হলে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধনের সক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে দুই ইউনিট মিলে বছরে মোট ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রীর আশা, নতুন ইউনিট চালু হলে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি দেশীয়ভাবে পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
দীর্ঘদিনের প্রকল্পে এবার গতি
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে ছিল। অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় এবার প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে ডিজেল, গ্যাসোলিন, জেট ফুয়েল, এলপিজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতাও বাড়বে। এতে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের আমদানি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
দুই সপ্তাহে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতির আশা
এদিকে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সৌদি আরব, কাতার ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প উৎসও খুঁজছে বলে জানান তিনি।


























