০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঢেলে সাজিয়ে তৃণমূল গোছাতে চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠেয় এই কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জাতীয় কাউন্সিলের সময় নির্ধারণের পাশাপাশি কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল

বিএনপি সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা। একই মেয়াদে দলের বিভিন্ন কমিটিরও দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মামলা, গ্রেপ্তার এবং নানা বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। ফলে বিএনপির অনেক সাংগঠনিক কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

দলীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় জাতীয় কাউন্সিলের আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল পুনর্গঠনে জোর

কাউন্সিল সামনে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন করতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি যেসব কমিটি আংশিক রয়েছে, সেগুলো পূর্ণাঙ্গ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা গেলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হবে।

তার ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের পর দলের অনেক নেতা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাদের অনেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন। ফলে দলকে আরও সক্রিয় করতে নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, দলের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্ষম নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পদটি ছেড়ে দিলে রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় নেতাদের মধ্যে রিজভীকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

এ ছাড়া তিনি সংসদ সদস্য না হওয়ায় দলের সাংগঠনিক কাজে তুলনামূলক বেশি সময় দিতে পারবেন বলে মনে করছেন দলের অনেকে। ফলে কাউন্সিলে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে তার নাম গুরুত্ব পেতে পারে।

অঙ্গসংগঠনেও পরিবর্তনের আভাস

জাতীয় কাউন্সিলের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

তাই এসব সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের নেতৃত্বে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ক্ষমতার বাইরে থাকার দীর্ঘ সময়ে যারা দলীয় কর্মকাণ্ড সচল রেখেছেন, তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল ও মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুসহ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিএনপি।

সব মিলিয়ে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে সাংগঠনিক গতি ফেরাতে চায় দলটি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঢেলে সাজিয়ে তৃণমূল গোছাতে চায় বিএনপি

আপডেট সময় : ১২:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠেয় এই কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জাতীয় কাউন্সিলের সময় নির্ধারণের পাশাপাশি কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল

বিএনপি সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা। একই মেয়াদে দলের বিভিন্ন কমিটিরও দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মামলা, গ্রেপ্তার এবং নানা বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। ফলে বিএনপির অনেক সাংগঠনিক কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

দলীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় জাতীয় কাউন্সিলের আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল পুনর্গঠনে জোর

কাউন্সিল সামনে রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন করতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি যেসব কমিটি আংশিক রয়েছে, সেগুলো পূর্ণাঙ্গ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা গেলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হবে।

তার ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের পর দলের অনেক নেতা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাদের অনেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন। ফলে দলকে আরও সক্রিয় করতে নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, দলের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্ষম নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পদটি ছেড়ে দিলে রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় নেতাদের মধ্যে রিজভীকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

এ ছাড়া তিনি সংসদ সদস্য না হওয়ায় দলের সাংগঠনিক কাজে তুলনামূলক বেশি সময় দিতে পারবেন বলে মনে করছেন দলের অনেকে। ফলে কাউন্সিলে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে তার নাম গুরুত্ব পেতে পারে।

অঙ্গসংগঠনেও পরিবর্তনের আভাস

জাতীয় কাউন্সিলের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

তাই এসব সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের নেতৃত্বে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ক্ষমতার বাইরে থাকার দীর্ঘ সময়ে যারা দলীয় কর্মকাণ্ড সচল রেখেছেন, তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল ও মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুসহ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিএনপি।

সব মিলিয়ে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে সাংগঠনিক গতি ফেরাতে চায় দলটি।