কুষ্টিয়ায় লাশ নিয়ে টানাটানি বন্ধে পাকা করে সিলগালা পীর শামীমের কবর
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮৯ বার পড়া হয়েছে
কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর এবার পাকা করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের কবর। পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের সহায়তায় ইট সিমেন্ট দিয়ে কবরটি ঢালাই করে দেন। ভবিষ্যতে যেন কেউ কবর খুঁড়ে মরদেহ নিয়ে যেতে না পারে, সে কারণেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে কবরটি পাকা করা হয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় কবরস্থান থেকে পীর শামীমের মরদেহ তুলে নিয়ে যান তাঁর ভক্তরা। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজনেরা কবরস্থানে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে শামীমের দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে মাটিচাপা দেওয়া একটি কবরের সন্ধান পান তাঁরা।
কবর থেকে মরদেহ তুলে দরবারে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এরপর মরদেহটি আগের পারিবারিক কবরস্থানে ফিরিয়ে এনে পুনরায় দাফন করা হয়।
মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর থানায় লাশ অবমাননার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
কবর পাকা করার বিষয়ে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বলেন, আর যেন কেউ কবর খুঁড়ে লাশ তুলতে না পারে, এজন্য আমরা কবরটি পাকা করে দিচ্ছি। লাশ টানাটানি আর যেন না হয় এজন্য ইট সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে সিলগালা করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, শামীমের ভাইয়েরা কবরটি পাকা করে দিয়েছেন। লাশ নিয়ে যেন বারবার টানাটানি না হয়, এজন্যই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে তিনি নিহত হন। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় নিহত শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।




















