কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬১২ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন। ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জন—উভয় ক্ষেত্রেই ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
৯২ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছাত্র এবং ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্রী।
প্রকাশিত ফলাফলে মোট ৪৪ হাজার ৭২৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ২৮ হাজার ৪১৫ জন এবং ছাত্র ১৫ হাজার ৮৫৭ জন। পাসের সংখ্যা বিবেচনায় মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
এবারের ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এগিয়ে মেয়েরা
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ৮২১ জন ছাত্রী এবং ৪৮২ জন ছাত্র।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। শুধু পাসের হার নয়, সর্বোচ্চ ফল অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা নিজেদের এগিয়ে থাকার প্রমাণ দিয়েছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ফলাফলে মেয়েদের এই সাফল্য তাদের একাডেমিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে। মেয়েদের এমন ধারাবাহিক সাফল্য গর্বের বিষয়। তাদের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।
শতভাগ পাস চার প্রতিষ্ঠানে, শূন্য পাস ১৫টিতে
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে।
অন্যদিকে বোর্ডের অধিভুক্ত ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই বোর্ডের অধীনে কিছু প্রতিষ্ঠানের শতভাগ সাফল্য এবং অন্য কিছু প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পার্থক্যকে সামনে এনেছে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা উপস্থিত
ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড সচিবসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফলের সার্বিক চিত্র, পাসের হার, জিপিএ-৫ অর্জন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সামগ্রিকভাবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফলে মেয়েদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য হলেও পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকা এবং ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়টি নতুন করে শিক্ষার মান ও ফলাফল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।





















