০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়া কাপ: জ্যোতির সিদ্ধান্ত ও ব্যাটিং কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকে আবারও বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ভারতের বিপক্ষে ৪০ রানের হারে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। তবে শুধু পরাজয় নয়, ম্যাচের ধরনও হতাশ করেছে সমর্থকদের। সামনে এসেছে অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত, ব্যাটিং ব্যর্থতা ও কোচিং পরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রশ্ন।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হার

ভারত ১৫০ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল ছন্নছাড়া। পুরো ইনিংসে জয়ের তেমন কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি। একের পর এক ডট বল এবং ধীরগতির ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

দলের ব্যাটিং দুর্বলতা অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বড় দলের বিপক্ষে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ছোট দলগুলোর বিপক্ষে কোনোভাবে সামলে উঠলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে একই দুর্বলতা আবারও প্রকাশ পাচ্ছে।

সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদও ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাটাররা খেলতে পারছেন না। ব্যাটিং কোচকে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে ক্রিকেটারদের মৌলিক দক্ষতা ও টি-টোয়েন্টির স্কিল উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

প্রশ্নের মুখে ব্যাটিং কোচ

নারী দলের ব্যাটিং কোচ নাসিরউদ্দিন ফারুকী প্রায় পাঁচ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছেন। দায়িত্বের শুরুতে ব্যাটারদের খেলায় কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি।

রুমানা আহমেদের মতে, দলে স্বর্ণা ছাড়া কোনো ব্যাটারকেই এবারের আসরে কার্যকর টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলতে দেখা যায়নি। ওপেনারদের ধারাবাহিকতার অভাবও দলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে এশিয়া কাপের পর কোচিং প্যানেলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুও কোচিং প্যানেল নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছেন।

অধিনায়ক জ্যোতির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন

এবারের আসরে অধিনায়ক ও ব্যাটার—দুই ভূমিকাতেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি নিগার সুলতানা জ্যোতি। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে টস জিতে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দুবাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে আগে ব্যাট করার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে যায়। ম্যাচে বোলিং পরিবর্তন ও ফিল্ডিং সেটআপেও আক্রমণাত্মক মানসিকতার ঘাটতি ছিল।

ভারতের ওপেনার শেফালি বার্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। তাকে দ্রুত থামাতে বাংলাদেশ বোলারদের আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেত। পাশাপাশি একাধিক ক্যাচ মিস ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করাও ম্যাচের ফল বদলে দেয়।

ব্যাট হাতেও জ্যোতি ছিলেন নিষ্প্রভ। ভারতের বিপক্ষে ১৭ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

চার ম্যাচে জ্যোতির ৫৬ রান

এবারের এশিয়া কাপে চার ম্যাচে জ্যোতি করেছেন ৫৬ রান। তার স্ট্রাইক রেট ৮৬.১৫ এবং ব্যাটিং গড় ২৩।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১১ বলে ১০, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ বলে ৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৮ বলে ২৩ এবং ভারতের বিপক্ষে ১৭ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

দলের মিডল অর্ডারে দ্রুত রান প্রয়োজন হলেও জ্যোতি নিজে সামনে থেকে সেই ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলে জুনিয়র ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

এশিয়ান গেমসের পর আসতে পারে পরিবর্তন

এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পর এবার বাংলাদেশের সামনে এশিয়ান গেমস। একই দল নিয়েই সেখানে খেলবে বাংলাদেশ নারী দল।

বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসের পর কোচিং প্যানেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তার কথায়, দলের কোচিং কাঠামো নিয়ে বোর্ড ইতোমধ্যে ভাবছে।

তিনি আরও জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি বড় ভুল করেছে বাংলাদেশ। প্রথমত, ভারতকে ১২০ থেকে ১২৫ রানের মধ্যে আটকে রাখতে না পারা। দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক ক্যাচ মিস করা।

নারী ক্রিকেটারদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত ক্যাম্পের মধ্যেও রাখা হচ্ছে। এরপরও মাঠে প্রত্যাশিত উন্নতি না আসায় এখন ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

এশিয়া কাপের ব্যর্থতা তাই শুধু একটি ম্যাচের হার নয়। বরং দীর্ঘদিনের ব্যাটিং দুর্বলতা, ফিল্ডিং সমস্যা, অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত এবং কোচিং পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে এনেছে। এশিয়ান গেমসের পর নারী ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এশিয়া কাপ: জ্যোতির সিদ্ধান্ত ও ব্যাটিং কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল থেকে আবারও বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ভারতের বিপক্ষে ৪০ রানের হারে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। তবে শুধু পরাজয় নয়, ম্যাচের ধরনও হতাশ করেছে সমর্থকদের। সামনে এসেছে অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত, ব্যাটিং ব্যর্থতা ও কোচিং পরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রশ্ন।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হার

ভারত ১৫০ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল ছন্নছাড়া। পুরো ইনিংসে জয়ের তেমন কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি। একের পর এক ডট বল এবং ধীরগতির ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

দলের ব্যাটিং দুর্বলতা অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বড় দলের বিপক্ষে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ছোট দলগুলোর বিপক্ষে কোনোভাবে সামলে উঠলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে একই দুর্বলতা আবারও প্রকাশ পাচ্ছে।

সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদও ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাটাররা খেলতে পারছেন না। ব্যাটিং কোচকে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে ক্রিকেটারদের মৌলিক দক্ষতা ও টি-টোয়েন্টির স্কিল উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

প্রশ্নের মুখে ব্যাটিং কোচ

নারী দলের ব্যাটিং কোচ নাসিরউদ্দিন ফারুকী প্রায় পাঁচ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছেন। দায়িত্বের শুরুতে ব্যাটারদের খেলায় কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি।

রুমানা আহমেদের মতে, দলে স্বর্ণা ছাড়া কোনো ব্যাটারকেই এবারের আসরে কার্যকর টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলতে দেখা যায়নি। ওপেনারদের ধারাবাহিকতার অভাবও দলের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে এশিয়া কাপের পর কোচিং প্যানেলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুও কোচিং প্যানেল নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছেন।

অধিনায়ক জ্যোতির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন

এবারের আসরে অধিনায়ক ও ব্যাটার—দুই ভূমিকাতেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি নিগার সুলতানা জ্যোতি। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে টস জিতে আগে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দুবাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে আগে ব্যাট করার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে যায়। ম্যাচে বোলিং পরিবর্তন ও ফিল্ডিং সেটআপেও আক্রমণাত্মক মানসিকতার ঘাটতি ছিল।

ভারতের ওপেনার শেফালি বার্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। তাকে দ্রুত থামাতে বাংলাদেশ বোলারদের আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেত। পাশাপাশি একাধিক ক্যাচ মিস ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করাও ম্যাচের ফল বদলে দেয়।

ব্যাট হাতেও জ্যোতি ছিলেন নিষ্প্রভ। ভারতের বিপক্ষে ১৭ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

চার ম্যাচে জ্যোতির ৫৬ রান

এবারের এশিয়া কাপে চার ম্যাচে জ্যোতি করেছেন ৫৬ রান। তার স্ট্রাইক রেট ৮৬.১৫ এবং ব্যাটিং গড় ২৩।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১১ বলে ১০, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ বলে ৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৮ বলে ২৩ এবং ভারতের বিপক্ষে ১৭ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

দলের মিডল অর্ডারে দ্রুত রান প্রয়োজন হলেও জ্যোতি নিজে সামনে থেকে সেই ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলে জুনিয়র ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

এশিয়ান গেমসের পর আসতে পারে পরিবর্তন

এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পর এবার বাংলাদেশের সামনে এশিয়ান গেমস। একই দল নিয়েই সেখানে খেলবে বাংলাদেশ নারী দল।

বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসের পর কোচিং প্যানেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তার কথায়, দলের কোচিং কাঠামো নিয়ে বোর্ড ইতোমধ্যে ভাবছে।

তিনি আরও জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি বড় ভুল করেছে বাংলাদেশ। প্রথমত, ভারতকে ১২০ থেকে ১২৫ রানের মধ্যে আটকে রাখতে না পারা। দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক ক্যাচ মিস করা।

নারী ক্রিকেটারদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত ক্যাম্পের মধ্যেও রাখা হচ্ছে। এরপরও মাঠে প্রত্যাশিত উন্নতি না আসায় এখন ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

এশিয়া কাপের ব্যর্থতা তাই শুধু একটি ম্যাচের হার নয়। বরং দীর্ঘদিনের ব্যাটিং দুর্বলতা, ফিল্ডিং সমস্যা, অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত এবং কোচিং পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে এনেছে। এশিয়ান গেমসের পর নারী ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।