৮ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস’
- আপডেট সময় : ১২:০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৯৩০ বার পড়া হয়েছে
ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং ফিজিওথেরাপিস্টদের অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতিবছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস’। ১৯৯৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর বিশ্বের ১৩০টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
একসময় সংক্রামক রোগ মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এসব রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে বর্তমানে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো অসংক্রামক রোগ অকালমৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি
নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার কিংবা ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ ওজন, রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে নিরাপদ ও উপযোগী ব্যায়াম পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।
হৃদরোগের পর কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন
হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর পুনর্বাসনে কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে রোগীকে ধীরে ধীরে ও নিরাপদভাবে শারীরিক কার্যকলাপে ফিরিয়ে আনা হয়।
ধাপে ধাপে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথও সহজ হয়।
স্ট্রোকের পর ফিজিওথেরাপি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যায়। ফলে হাঁটা, ভারসাম্য রক্ষা এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরের এক পাশের এই দুর্বলতাকে হেমিপ্লেজিয়া বলা হয়।
সঠিক ফিজিওথেরাপি রোগীর পেশিশক্তি, ভারসাম্য, হাঁটার সক্ষমতা এবং দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গেইট ট্রেনিং, ব্যালান্স এক্সারসাইজ ও ফাংশনাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে রোগীকে যতটা সম্ভব স্বনির্ভর করে তোলাই পুনর্বাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সচেতনতাই হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধের প্রথম ধাপ
হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নয়, রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
একইভাবে বুকে চাপ বা ব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ দুর্বলতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিরোধ থেকে পুনর্বাসন—ফিজিওথেরাপির বিস্তৃত ভূমিকা
ফিজিওথেরাপি শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য নয়; রোগ প্রতিরোধেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘসময় একটানা শুয়ে বা বসে না থেকে নিয়মিত হাঁটা, দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা এবং নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম বা শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তবে হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যায়াম শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও কার্যকলাপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসার সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা ও যথাযথ পুনর্বাসন একজন রোগীকে আবার সক্রিয় ও স্বনির্ভর জীবনে ফিরতে সহায়তা করতে পারে।
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে ফিজিওথেরাপি পেশার সঙ্গে যুক্ত সব পেশাজীবীকে শুভেচ্ছা। হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতন থাকুন, সক্রিয় থাকুন এবং আজ থেকেই জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন।
লেখক: প্রদীপ চন্দ্র দাস
ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ
নিউরোসার্জারি বিভাগ, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (বারডেম)


























