হেটমায়ারের শতক ছাপিয়ে ফাইনালে জ্যামাইকা, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বিদায় মিরাজদের
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) কোয়ালিফায়ারে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে জ্যামাইকা কিংসম্যান। শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত শতকের পরও গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শেষ ওভারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়।
বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে টস জিতে গায়ানাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় জ্যামাইকা। শুরুতেই বিপদে পড়ে গায়ানা। দলীয় ২০ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার মোহাম্মদ হারিস ও মাভেন্দ্র দয়াল। দুজনই করেন ৯ রান।
হেটমায়ারের ঝড়ো শতক
এরপর গায়ানার ইনিংসের হাল ধরেন শিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপ। শুরুতে ধীরে খেললেও পরে গতি বাড়ান দুজন। হেটমায়ারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় গায়ানা।
মাত্র ২০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হেটমায়ার। অন্য প্রান্তে হোপও দারুণ সঙ্গ দেন। দুজনের জুটিতে আসে ৯৬ রান। ৩৩ বলে ৪০ রান করে হুনাইন শাহর বলে আউট হন হোপ।
তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেন হেটমায়ার। ৪৫ বলে ৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১০২ রান করেন তিনি। কুয়েন্টিন স্যাম্পসন ১৭ বলে ২৯ এবং রোমারিও শেফার্ড ৭ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৬ রান সংগ্রহ করে গায়ানা। বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি।
শুরুতেই জ্যামাইকার ঝড়
২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জ্যামাইকার শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। পাকিস্তানি তরুণ মাজ সাদাকাত শুরু থেকেই গায়ানার বোলারদের ওপর চড়াও হন। মিরাজের করা দ্বিতীয় ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চারে ১৮ রান নেন তিনি।
তবে তৃতীয় ওভারে প্রিটোরিয়াসের বলে আউট হন মাজ। তার ১৭ বলের ইনিংসে ছিল ৪১ রান।
এরপর কির্ক ম্যাকেঞ্জি ও কেসি কার্টি জ্যামাইকার ইনিংস এগিয়ে নেন। ২০ বলে ৩৪ রান করে ইমরান তাহিরের বলে আউট হন ম্যাকেঞ্জি। মাঝের ওভারে মিরাজও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরান।
তবে সাইম আইয়ুব এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে আবার চাপ বাড়ান। এরপর ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন কার্টি। ৪০ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৬ রান করে রানআউট হন তিনি।
শেষ তিন ওভারে বদলে যায় ম্যাচ
শেষ ৩ ওভারে জ্যামাইকার প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। তখনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল।
ইমরান তাহিরের ওভারে দুই ছক্কাসহ ১৫ রান তোলেন পাওয়েল ও আন্দ্রে রাসেল। পরের ওভারে শামার জোসেফের বলে একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান পাওয়েল। এতে শেষ ওভারের আগে জয়ের সমীকরণ নেমে আসে মাত্র ৬ রানে।
শেষ ওভারের প্রথম বলেই আন্দ্রে রাসেলকে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন রোমারিও শেফার্ড। পরের বলে হাসান নওয়াজের ক্যাচ ফেলে গায়ানা। সেই সুযোগ কাজে লাগান নওয়াজ।
তৃতীয় বলেই ২ রান নিয়ে জ্যামাইকার জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ফলে ৫ উইকেটের জয় নিয়ে সিপিএলের ফাইনালে জায়গা করে নেয় জ্যামাইকা কিংসম্যান।
পাওয়েল ১৭ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা। নওয়াজ ২ বলে ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
গায়ানার হয়ে প্রিটোরিয়াস ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। মিরাজ ৪ ওভারে ৪৩ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।
হেটমায়ারের ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস শেষ পর্যন্ত গায়ানাকে ফাইনালে নিতে পারেনি। রুদ্ধশ্বাস লড়াই জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে জ্যামাইকা কিংসম্যান।























