হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান
- আপডেট সময় : ১২:২২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রায় উদ্বেগ বেড়েছে সৌদি আরবের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। তবে সৌদি যুবরাজের অনুরোধে সম্মতি দেননি ট্রাম্প।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেন এমবিএস। প্রথম ফোনে তিনি ইয়েমেনের পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আলোচনা করেন। কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তবে আপাতত ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মোখা দখল করে এগোচ্ছে হুতিরা
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে হুতিরা। এরপর তারা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছে। ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রের দাবি, হুতিরা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছেও পৌঁছে গেছে।
মোখা দখলের ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে থাকা এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল করে সুয়েজ খালের দিকে।
ফলে বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হুতিরা প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তেলের বাজারে প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরপথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দেবেও অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহের সংকট আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার এমন আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দামও প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডি।
সরাসরি যুদ্ধে যেতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেনে নতুন করে সরাসরি সামরিক ফ্রন্ট খুলতে চায় না ওয়াশিংটন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে মনোযোগ ধরে রাখা।
সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করছেন। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন বিমান হামলার বিষয়ে এখনো সম্মতি দেননি ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
সংঘাত নিয়ে সতর্ক জাতিসংঘ
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেছেন, দেশটির যুদ্ধ ‘নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে।
তার মতে, মোখা দখলের মাধ্যমে হুতিরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রবেশপথে অবস্থান তৈরি করেছে। এতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুতিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বা অবরোধ দিয়ে ইয়েমেন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে।
সৌদির অবস্থানে পরিবর্তন
হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত গত জুলাইয়ে আবারও তীব্র হয়। এরপর হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। পরে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
জবাবে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। তবে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সামরিক সহায়তা চাইছে রিয়াদ।
এদিকে পাকিস্তানও হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানকে সতর্ক করেছে বলে সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র জানিয়েছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইরান হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।’
ইয়েমেনে সংঘাতের এই নতুন বিস্তার এমন সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উপসাগরীয় নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হতে পারে।





















