হলিউডে আবারও বিতর্কে ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড
- আপডেট সময় : ০১:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
হলিউডে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘দ্য মেগান কেলি’ নামক এক শোতে হাজির হয়ে ব্র্যান্ড স্বীকার করেন, তিনি ৩০ বছর বয়সে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর বয়সকে আইনগতভাবে সম্মতির বয়স হিসেবে ধরা হলেও তিনি নিজেই এ ধরনের সম্পর্ককে শোষণমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য মতে- সে সময় তিনি ‘অপরিণত’ ছিলেন এবং নিজের আচরণের প্রভাব অন্যের ওপরে কীভাবে পড়ছে, সেটা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি।
ব্র্যান্ডের এই স্বীকারোক্তি শুধু আইনি বৈধতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ক্ষমতার ভারসাম্যের জটিল বিষয়টিও তুলে ধরে। একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর প্রভাব ও আকর্ষণ যে সম্পর্ককে অসম করতে পারে, তা তিনি এখন উপলব্ধি করছেন। তিনি বলেন, ‘সম্মতিসূচক সম্পর্ক হলেও যখন ক্ষমতার ব্যবধান থাকে, বিশেষ করে একজন পরিচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে, সেখানে শোষণের ঝুঁকি থেকেই যায়।’
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ বিচারাধীন। ২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অশ্লীল হামলা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়, যা ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। একই বছরের শেষ দিকে আরও দুটি অভিযোগ যুক্ত হয়, যেগুলো ২০০৯ সালের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও রাসেল ব্র্যান্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
প্রাথমিকভাবে লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে জুন ২০২৬-এ তাঁর বিচার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তা পিছিয়ে অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং চূড়ান্ত রায় আসতে সময় লাগবে।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, আইনের সীমা যেখানে শেষ, নৈতিকতার বিচার কি সেখানেই শেষ হয়? ব্র্যান্ডের বক্তব্যে যেমন : আত্মসমালোচনার সুর আছে, তেমনি রয়েছে অতীতের আচরণ নিয়ে দেরিতে হলেও দায় স্বীকারের চেষ্টা। তবে সমালোচকেরা বলছেন, কেবল স্বীকারোক্তি নয়, বরং এসব ঘটনার প্রভাব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে আরও গভীর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।



























