সুনামগঞ্জে বজ্রপাত এখন এক নীরব ঘাতকের নাম
- আপডেট সময় : ০১:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাত এখন এক নীরব ঘাতকের নাম। গত এক দশকে এই জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। প্রতি বছরই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, যার সবচেয়ে বড় শিকার হাওরাঞ্চলের কৃষক ও জেলেরা। বিশেষজ্ঞরা একে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বললেও, হাওরবাসীর দাবি—সুরক্ষায় নেই পর্যাপ্ত সরকারি উদ্যোগ।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আড়ালে সুনামগঞ্জ যেন এক মৃত্যুপুরী। এখানে আকাশ মেঘলা হলেই বুক কাঁপে হাওরপারের মানুষের। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে বজ্রপাতে এই জেলায় প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের। চলতি বছরের শুরুতেই সেই তালিকায় যোগ হয়েছে আরও ১৩টি নাম।
মার্চ থেকে মে—বোরো ধান কাটার এই মৌসুমে বজ্রপাতের তীব্রতা থাকে সবচেয়ে বেশি। জীবন জীবিকার তাগিদে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও খোলা হাওরে থাকতে হয় কৃষকদের। আর এই অনাবৃত প্রান্তরই তাদের বজ্রপাতের সহজ শিকারে পরিণত করে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব না হলেও সচেতনতা বাড়লে প্রাণহানি কমানো সম্ভব বলে মনে করে স্থানীয় প্রশাসন।তবে কেবল সচেতনতা নয়, হাওরের মাঝখানে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের।
কৃষক ও জেলেদের রক্ষায় এবার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের আশ্বাস মিলেছে। জনপদটিকে নিরাপদ করতে হাওরে বজ্র নিরোধক দণ্ড ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।
বজ্রপাতে মৃত্যুর এই মিছিল থামাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চায় হাওরবাসী। মেঘের গর্জনে যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
























