সামরিক অভিযান চালালে পাকিস্তানকে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি আফগানিস্তানের
- আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তান সামরিক অভিযান চালালে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে—ইসলামাবাদের এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে কাবুল।
তালেবানের মুখপাত্র জবিহউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হলে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আফগানিস্তান।
পাকিস্তানকে তালেবানের হুঁশিয়ারি
আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জবিহউল্লাহ মুজাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি জানান, পাকিস্তান যদি আফগান ভূখণ্ডে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
মুজাহিদের ভাষ্য, আফগানিস্তানের ওপর হামলা হলে নিজেদের দেশ রক্ষার অধিকার রয়েছে। তাই পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিলে আফগানিস্তানও পাল্টা জবাব দেবে।
পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার
এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অভিযোগ করেন, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে এসব গোষ্ঠী পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে বলেও দাবি করে ইসলামাবাদ।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তালেবানের মুখপাত্র। তিনি বলেন, আফগান ভূখণ্ড থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয় না কাবুল।
একইভাবে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও তালেবান সমর্থন করে না বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তা সংকট নিয়ে ভিন্ন অবস্থান
জবিহউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা উচিত নয়। বরং দেশটির অভ্যন্তরেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তার দাবি, টিটিপি ও বেলুচ গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে অস্থিরতা তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার আগেও ছিল। ফলে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির দায় শুধু আফগানিস্তানের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
সংলাপে আগ্রহী কাবুল
তবে সীমান্তে উত্তেজনা চললেও পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপে বসতে আফগানিস্তান আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মুজাহিদ। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান মতবিরোধ নিরসনে সৌদি আরবের মধ্যস্থতাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তালেবানের এই মুখপাত্র।
মুজাহিদের মতে, সৌদি আরব পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—দুই দেশেরই বন্ধু। তাই দুই দেশের মতপার্থক্য কমাতে রিয়াদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।





















