সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি
- আপডেট সময় : ০৪:০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধভাবে বল প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক যোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ কারণে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে শুরু হয় মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষে সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন।
মামলাটিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম। এ ছাড়া এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একাধিক পরিচালককে আসামি করা হয়েছে।
২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়। এসব শেয়ার ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। শেয়ারগুলোর মোট মূল্য ২৫১ কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫০ কোটি টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। এত কম পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে এই লেনদেন সম্পন্ন করেন। এ ক্ষেত্রে জনগণের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনাবেচা নিয়ে প্রশ্ন
মামলার এজাহারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ার অধিগ্রহণের বৃহত্তর প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ব্যাংকটির মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কোম্পানির অনেকগুলোর সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং শেয়ার কেনাবেচার তারিখসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে একই দিনে শেয়ার বিক্রি ও কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। বাদীপক্ষের দাবি, এর মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়।
অভিযোগে এস আলম গ্রুপ, গ্রুপটির মালিক ও উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং এসব কোম্পানির নিয়োগ করা পরিচালকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আদালত
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণের ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদকের তদন্তের অগ্রগতি জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ২০ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

























