বাংলাদেশের উপকূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’
- আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩০ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১১-তে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চার সমুদ্রবন্দর থেকে দূরত্ব বেড়েছে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি বর্তমানে ১৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে।
ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে।
এর আগে দেওয়া বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১০ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এর দূরত্ব ছিল ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে।
সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে এটি ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।
বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এই গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এ কারণে সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের উপকূলের দিকে না এসে ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করবে। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের সীমানা থেকে দূরে সরে গেলেও সাগরের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। তাই জেলেসহ সমুদ্রে অবস্থানরত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, শক্তি এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর সতর্কসংকেত সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।





















