০২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্যাংক থেকে প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া বিল ও জাল ইনভয়েসের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে এই অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যারামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে ভুয়া ও জাল দলিলপত্র তৈরি করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাকে ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ করেনি। এরপরও ভুয়া বিল ও জাল ইনভয়েস তৈরি করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগ, এসব জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে ২৭টি মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে মোট ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও অ্যারামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন ও মোহাম্মদ আখতার হোসেন, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল কাদির ও মো. শহিদুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল হক, এফভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ ও মোহাম্মদ মহসীন আলী, এসপিও রিদুয়ানুল হক এবং অ্যারামিট সিমেন্টের এজিএম (হিসাব) একেএম মারুফসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ছিলেন ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স কাজ করে। পরে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

এ পর্যন্ত তদন্তসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৩০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন এ মামলায় ব্যাংকঋণের অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় : ০১:০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংক থেকে প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া বিল ও জাল ইনভয়েসের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে এই অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যারামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে ভুয়া ও জাল দলিলপত্র তৈরি করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাকে ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ করেনি। এরপরও ভুয়া বিল ও জাল ইনভয়েস তৈরি করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগ, এসব জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে ২৭টি মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে মোট ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও অ্যারামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন ও মোহাম্মদ আখতার হোসেন, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল কাদির ও মো. শহিদুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল হক, এফভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ ও মোহাম্মদ মহসীন আলী, এসপিও রিদুয়ানুল হক এবং অ্যারামিট সিমেন্টের এজিএম (হিসাব) একেএম মারুফসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ছিলেন ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স কাজ করে। পরে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

এ পর্যন্ত তদন্তসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৩০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন এ মামলায় ব্যাংকঋণের অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।