০১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপি নেতা পিন্টু হত্যা মামলায় তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজশাহীতে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ, সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম এবং মামলার সাক্ষী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তাঁদের মধ্যে বজলুর রশীদ ও শফিকুল ইসলাম এ মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন।

পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা

নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মারা যান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

পিন্টুর মৃত্যুর প্রায় ১০ বছর পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর ছোট ভাই নাসিম উদ্দিন রিন্টু বাদী হয়ে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। এরপর থেকে পিন্টুর মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি ও এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

মামলায় যাঁদের নাম রয়েছে

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাজি সেলিম ও ইরফান সেলিম।

এ ছাড়া তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, রাজশাহীর তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান এবং জেলার শাহাদাত হোসেন খানের নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলায় আসামি হিসেবে নাম থাকা অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ এজাহারে

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তারের পর নাসির উদ্দিন পিন্টুকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এতে তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। ২০১৪ সালে পিন্টুর চিকিৎসার জন্যও উচ্চ আদালতে একটি আবেদন করা হয়।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, উচ্চ আদালত পিন্টুকে নিজ খরচে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আই হসপিটালে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে তাঁকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ এবং পরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আদালতের চিঠি পেয়ে ২০১৫ সালের ২ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডা. রইছ উদ্দিন কারাগারে যান। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে কারা কর্তৃপক্ষ পিন্টুকে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

এর পরদিন, অর্থাৎ ৩ মে, কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। পিন্টুর মৃত্যুর পর রাজশাহীর তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ ঘটনাটিকে ‘নরমাল ডেথ’ বা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের গুরুত্ব

পিন্টুর মৃত্যুর সময় কারাগারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, আদালতের নির্দেশনা এবং কারাগারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তকারীরা কী তথ্য পেয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল মালেক রানা জানিয়েছেন, আদালত হত্যা মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কারা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

পিবিআইয়ের তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিএনপি নেতা পিন্টু হত্যা মামলায় তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট সময় : ১২:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজশাহীতে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ, সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম এবং মামলার সাক্ষী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন। তাঁদের মধ্যে বজলুর রশীদ ও শফিকুল ইসলাম এ মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন।

পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা

নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মারা যান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

পিন্টুর মৃত্যুর প্রায় ১০ বছর পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর ছোট ভাই নাসিম উদ্দিন রিন্টু বাদী হয়ে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। এরপর থেকে পিন্টুর মৃত্যুর পেছনের পরিস্থিতি ও এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

মামলায় যাঁদের নাম রয়েছে

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাজি সেলিম ও ইরফান সেলিম।

এ ছাড়া তৎকালীন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, রাজশাহীর তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান এবং জেলার শাহাদাত হোসেন খানের নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলায় আসামি হিসেবে নাম থাকা অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ এজাহারে

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তারের পর নাসির উদ্দিন পিন্টুকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এতে তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। ২০১৪ সালে পিন্টুর চিকিৎসার জন্যও উচ্চ আদালতে একটি আবেদন করা হয়।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, উচ্চ আদালত পিন্টুকে নিজ খরচে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আই হসপিটালে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে তাঁকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ এবং পরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আদালতের চিঠি পেয়ে ২০১৫ সালের ২ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডা. রইছ উদ্দিন কারাগারে যান। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে কারা কর্তৃপক্ষ পিন্টুকে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী।

এর পরদিন, অর্থাৎ ৩ মে, কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। পিন্টুর মৃত্যুর পর রাজশাহীর তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ ঘটনাটিকে ‘নরমাল ডেথ’ বা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের গুরুত্ব

পিন্টুর মৃত্যুর সময় কারাগারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, আদালতের নির্দেশনা এবং কারাগারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তিন কারা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তকারীরা কী তথ্য পেয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল মালেক রানা জানিয়েছেন, আদালত হত্যা মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কারা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

পিবিআইয়ের তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।