শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: হাসিনা-বেনজীরসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১১:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান ও শাহরিয়ার কবিরসহ আরও কয়েকজন। অসুস্থ থাকায় সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের ঘটনায় আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আসামিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করা।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, আবদুল জলিল মণ্ডল ও সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুসহ আরও কয়েকজন।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যারা আছেন
মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক।
এ ছাড়া একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুও গ্রেপ্তার রয়েছেন।
মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। একই মামলায় আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা পলাতক।
দুটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আরও কয়েকটি নিহতের ঘটনাও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম ও আবু ইউসুফসহ আরও অনেককে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো এবং নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।





















