ঢাকায় ভূমিকম্পে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত ৪৪৫ স্থান
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দিতে ৪৪৫টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবক গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ
দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের কয়েকটি বড় শহর ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহকে ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভূমিকম্প একটি আকস্মিক দুর্যোগ। তাই দুর্যোগের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা জরুরি।
মন্ত্রী জানান, ঢাকায় ভূমিকম্প হলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী এক লাখ উদ্ধারকর্মী প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বড় ধরনের দুর্যোগে উদ্ধারকাজ দ্রুত শুরু করতে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদেরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
৪৪৫ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা
ভূমিকম্পের পর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে রাজধানীতে ৪৪৫টি স্থানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব স্থানের মধ্যে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এসব স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নির্ধারণ করলেই হবে না। দুর্যোগের সময় সেখানে মানুষকে কীভাবে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিও আগে থেকে পরিকল্পনায় রাখতে হবে।
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানার আহ্বান
রাজধানীর ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকার অনেক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড কতটা অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভবন নির্মাণের সময় অবশ্যই নির্ধারিত বিল্ডিং কোড অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর নির্ভর করে না। দুর্বল ও অপরিকল্পিত ভবন এবং প্রস্তুতির ঘাটতিও ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নগরবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবন নির্মাণে নিয়ম মানতে হবে।
নভেম্বর থেকে ৫ হাজারের বেশি খাল খনন
অনুষ্ঠানে দেশের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়েও কথা বলেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী নভেম্বর থেকে পাঁচ হাজারের বেশি খাল খননের কাজ শুরু হবে।
সরকার গ্রামীণ এলাকার দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধার করে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, উদ্ধার করা খালগুলোতে সবুজায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে একদিকে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ পরিবেশও আরও সুন্দর ও সবুজ হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোর তাগিদ
দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার ও প্রাথমিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
রাজধানীর জনসংখ্যা ও ঘনবসতির কথা বিবেচনায় নিয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


























