০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ ও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তবে এসব কর্মসূচিকে আপাতত বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না দলটি। একই সঙ্গে বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতারা সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না। তাদের বক্তব্য, সরকারে থেকে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে জনসম্পৃক্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লংমার্চকে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছে বিএনপি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে তারা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে দলের ভেতরে কেউ কেউ মনে করছেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে।

লংমার্চ নিয়ে জামায়াতের ভিন্ন অবস্থান

বিএনপির এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে সংসদে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন হতো না।

তার বক্তব্য, বিএনপির আগের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান অবস্থানেরও পার্থক্য রয়েছে।

একের পর এক লংমার্চ

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করে জোটটি। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে দ্বিতীয় দফার লংমার্চ শুরু হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর কর্মসূচিটি রংপুরের দিকে এগিয়ে যায়। পথে একাধিক পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।

এবারের কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেল ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো দাবি সামনে আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা

বিরোধী জোটের নেতারা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির কথা বলছেন। ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দাবিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী এক দফায় পরিণত হতে পারে।

এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভাগুলোতেও সরকারের বিভিন্ন নীতি ও জনজীবনের সংকট নিয়ে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের নেতারা।

পাল্টা কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার জন্য পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকারও বদলেছে বলে মনে করছেন দলের নেতাদের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সংসদীয় কাজেই দলের বড় অংশের মনোযোগ।

তবে বিরোধীরা যদি নিয়মিতভাবে জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে মাঠে থাকে, তাহলে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক বক্তব্য কতটা কার্যকর হয়, সেটিও সামনে আসবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

আপডেট সময় : ১২:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ ও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তবে এসব কর্মসূচিকে আপাতত বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না দলটি। একই সঙ্গে বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতারা সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না। তাদের বক্তব্য, সরকারে থেকে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে জনসম্পৃক্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

লংমার্চকে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছে বিএনপি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চকে তারা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে দলের ভেতরে কেউ কেউ মনে করছেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে।

লংমার্চ নিয়ে জামায়াতের ভিন্ন অবস্থান

বিএনপির এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে সংসদে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন হতো না।

তার বক্তব্য, বিএনপির আগের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান অবস্থানেরও পার্থক্য রয়েছে।

একের পর এক লংমার্চ

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করে জোটটি। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে দ্বিতীয় দফার লংমার্চ শুরু হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর কর্মসূচিটি রংপুরের দিকে এগিয়ে যায়। পথে একাধিক পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।

এবারের কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেল ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো দাবি সামনে আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা

বিরোধী জোটের নেতারা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির কথা বলছেন। ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দাবিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী এক দফায় পরিণত হতে পারে।

এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভাগুলোতেও সরকারের বিভিন্ন নীতি ও জনজীবনের সংকট নিয়ে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের নেতারা।

পাল্টা কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার জন্য পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকারও বদলেছে বলে মনে করছেন দলের নেতাদের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সংসদীয় কাজেই দলের বড় অংশের মনোযোগ।

তবে বিরোধীরা যদি নিয়মিতভাবে জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে মাঠে থাকে, তাহলে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক বক্তব্য কতটা কার্যকর হয়, সেটিও সামনে আসবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।