রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত: সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার মুন লাইট গার্ডেন কনভেনশন সেন্টারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, “আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাংলাদেশের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে যাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা চাই ন্যায় ও সমতার বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।” বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই ভূখণ্ডের প্রাচীন অধিবাসী। আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভূমি ও জীবনযাপন বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসীদের প্রতিটি জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে নিতে ৫% কোটা সংরক্ষণের দাবি জানান তারা। এ সময় বিগত সরকারের সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আদিবাসীদের ভূমি দখল করা হয়েছে এবং আদিবাসী নারীদের ওপর ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পরেও বর্তমানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, “বিএনপি সরকার সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছে। তাই আদিবাসীদের ওপর হওয়া সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার রক্ষায় পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন এবং সংবিধানে আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান। সভায় আদিবাসীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৯ দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করতে হবে। সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণ বন্ধ এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসীদের জমি জবরদখল বন্ধ, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার এবং ভূমি-সংক্রান্ত হয়রানি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধসহ আদিবাসীদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং ছিন্নমূল আদিবাসীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ইশা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খোকা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ছোটন সরদার এবং আদিবাসী যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি যাদু কুমার দাস প্রমুখ।



















