মাদারগঞ্জে ১২৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম। উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৭৫টি পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭টিতে চলতি দায়িত্বে এবং ১০১টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের কাউকে চলতি, আবার কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হচ্ছে।
৬৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী
মাদারগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
কোয়ালিকান্দি, ঝাড়কাটা, চরনগর, পূর্ব চরপাকেরদহ, চাঁদপুর সন্ধ্যাজান, বালিজুড়ী আরএ, চর নাংলা, পশ্চিম জটিয়ারপাড়া, চরপাড়া ইসলামিয়া ও জোড়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১২৮টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।
শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেতৃত্ব সংকটে বিদ্যালয় পরিচালনা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে শিক্ষকরা যথাযথভাবে মানতে চান না। আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়েন।
তাদের মতে, বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রয়োজন।
শিক্ষা অফিসেও অর্ধেক পদ শূন্য
শুধু বিদ্যালয় নয়, মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে জনবল সংকট। অনুমোদিত ১২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ছয়জন। তাদের মধ্যে একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক রয়েছেন।
অন্যদিকে তিনজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন হিসাব সহকারী, একজন অফিস সহকারী এবং একজন অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে।
ফলে বিদ্যালয় পরিদর্শন, প্রশাসনিক কাজ ও শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতে কর্মকর্তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অভিভাবকদের উদ্বেগ
অভিভাবক তোফায়েল আহম্মেদ, এনামুল হক ও নাজিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাও ঠিকভাবে বজায় থাকছে না। অনেক শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে না আসায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
তাদের দাবি, দ্রুত শিক্ষক সংকট সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে চলে যেতে পারে।
চরগুজামানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন প্রয়োজন।
দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, তিনি পাঁচ মাস আগে মাদারগঞ্জে যোগ দিয়েছেন। অবসর, বদলি, মৃত্যু ও মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়েছে। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা অফিসেও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদসহ ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যালয় পরিদর্শনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনবল সংকটের মধ্যেও শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। দ্রুত অফিসে জনবল এবং বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক দেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।




















