ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরে স্ত্রী হাসিনা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী ফরহাদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরহাদ মোল্লা (৩৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে পারিবারিকভাবে নগরকান্দা উপজেলার বস্তা পট্টি গ্রামের ফরহাদ মোল্লার সঙ্গে হাসিনা বেগমের বিয়ে হয়। কয়েক বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য হাসিনাকে চাপ দিতেন ফরহাদ। একপর্যায়ে তিনি হাসিনার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। তবে হাসিনার পরিবার সেই টাকা দিতে পারেনি।
এর জেরে ২০২৩ সালের ৩১ মে দিবাগত রাতের কোনো একসময় হাসিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরদিন ১ জুন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসিনার বাবা মছলেম খলিফা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
এ ঘটনায় ওই দিনই হাসিনার বাবা বাদী হয়ে ফরহাদ মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নগরকান্দা থানায় মামলা করেন।
পরে মামলাটি ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত ফরহাদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে আশা করেন তিনি।






















