পুলিশকে দুষ্টের দমনে কঠোর হতে হবে: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
দুষ্টের দমনে পুলিশকে কঠোর এবং শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তায় পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব নির্দেশনা দেন।
সাক্ষাৎকালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশের কার্যক্রম এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেন তারা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশের প্রধান দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্ব
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ যেন পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখলে জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সাইবার অপরাধ ও গুজব প্রতিরোধ
সাইবার অপরাধ, অপতথ্য ও গুজবকে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। গুজবের কারণে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে বলেন।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে পুলিশের তদন্ত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় গুরুত্ব
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি। নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মানবাধিকার রক্ষার নির্দেশ
দায়িত্ব পালনের সময় মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না। জনগণকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পুলিশকে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশের আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা
সাক্ষাৎকালে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। পুলিশের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আইজিপি। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা ও মনোবল বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানান তিনি।
আইজিপি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে পুলিশ বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি।
























