পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, দলীয়করণে ন্যায়বিচার সম্ভব নয়
- আপডেট সময় : ১২:১৯:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ অব্যাহত রেখে কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে বৈষম্য দূর করে নাগরিকদের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বা ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’ স্লোগান দিয়েছিল। এই ন্যায়বিচারের অর্থ হলো সমাজের সব স্তরের বৈষম্য দূর করা।
তার মতে, প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কোটা প্রথার মতো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাও ন্যায়বিচারের অংশ।
তিনি বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে আবারও পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ চলছে। এই দলীয়করণ অব্যাহত থাকলে কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে না।
সব স্তরে বৈষম্য দূর করার তাগিদ
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকেই বৈষম্য দূর করতে হবে। নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাই ন্যায়বিচারের মূল কথা।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে না।
মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, মহানবীর (সা.) আদর্শে সমাজ গড়ে তুলতে পারলে সর্বস্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দূর করতে হলে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই আহতদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের ভূমিকা
কনফারেন্সে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসায় ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের এই ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের সময় অনেক চিকিৎসককে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কাউকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। আবার কাউকে নিজ মেডিকেল বিভাগ থেকে সরিয়ে অন্য বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের বদলি চিকিৎসকদের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এরপরও ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসকেরা মানবতার সেবায় কাজ করেছেন।
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রাসূল (সা.)-এর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটলে সমাজে অশান্তি তৈরি হয়। তাই বাংলাদেশে রাসূল (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, মানুষের তৈরি আইনে সমাজে স্থায়ী শান্তি আসেনি এবং আসবে না। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ মারুফ শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি ডা. মো. নুর উদ্দিন তালুকদার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, মতিঝিল মিসবাহুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ড. মাহমুদুল হাসানসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এতে ইসলামী ভাবধারার বিভিন্ন পরিবেশনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ অনুসরণ এবং নৈতিক মূল্যবোধের বার্তা তুলে ধরা হয়।
কনফারেন্সে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।






















