ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘট, ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০২:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। জরুরি রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে দুর্ভোগ। হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিয়ে বিরোধের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের অনেককেই জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। আবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেউ মারা গেলে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্যও অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে এসব জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে রোগীর স্বজনরা
হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় রোগী ও মৃতের স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসেও অনেকে রোগী পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন জানান, তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালে এলেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করতে পারেননি।
তিনি বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর তাঁরা মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো গাড়ি না পাওয়ায় বিপাকে পড়েন। তাঁদের বাইরে গিয়ে গাড়ি খুঁজতে বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের ভেতরে থাকা অ্যাম্বুলেন্সচালকেরাও যেতে রাজি হচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহন ও মরদেহ নেওয়ার মতো জরুরি কাজেও বাধার মুখে পড়ছেন স্বজনরা।
স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট
অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা নেই। এ কারণে হাসপাতালের আশপাশে অ্যাম্বুলেন্স রাখা এবং রোগী ওঠানো-নামানো নিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।
বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতির দাবি, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সামনে রোগী ওঠানোর পরও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চান।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতবর বলেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁর দাবি, নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করছে এবং রোগী নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকলে রোগীরা কীভাবে হাসপাতালে থেকে অন্যত্র যেতেন? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতির
হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রাখার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, অন্য একটি চক্র এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করছে। এর দায় সমিতির ওপর চাপানো ঠিক নয়।
এদিকে, হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নির্বিঘ্ন করতে অন্য যানবাহন সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও বক্তব্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি স্টার নিউজকে জানান, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সুবিধার্থে তিনি রিকশাসহ অন্য যানবাহন সরিয়ে দিচ্ছেন।
তবে কারা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
দাবি পূরণ হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আশ্বাস
বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতবর জানিয়েছেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন।
তাঁদের মতে, নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে অ্যাম্বুলেন্স রাখার পাশাপাশি রোগী ওঠানো-নামানো আরও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে। এতে হাসপাতালের সামনে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হবে।
তবে এ বিরোধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাঁদের স্বজনরা। বিশেষ করে জরুরি রোগী স্থানান্তর ও মৃতদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জরুরি চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ পরিবহনের মতো মানবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনার পাশাপাশি রোগীদের জরুরি পরিবহন নিশ্চিত করাও জরুরি। স্থায়ী পার্কিংয়ের সমস্যার সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা গেলে এ ধরনের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হতে পারে।




















