০২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরি গেলেই ছাড়তে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসায় থাকা বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজার জন্য বর্তমানে পাওয়া ৬০ দিনের সুযোগ হারাতে পারেন। ফলে চাকরি শেষ হওয়ার পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে তাদের।

বাতিল হতে পারে ৬০ দিনের সুযোগ

২০১৭ সাল থেকে এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু রয়েছে। চাকরি হারানোর পর এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রয়োজন হলে বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল ছাড়ানোর মতো বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সময়ও পান।

তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই সুযোগ বাতিল হতে পারে। এতে চাকরি হারানোর পর বিদেশি কর্মীদের ওপর দ্রুত দেশ ছাড়ার চাপ তৈরি হবে।

আরও যেসব ভিসাধারী প্রভাবিত হবেন

প্রস্তাবটি শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য নয়। আরও কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্ম ভিসাধারী এর আওতায় পড়বেন।

এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের ই-১ ভিসা, বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালকদের ই-২ ভিসা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের এল-১ ভিসা। এছাড়া বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ও-১ ভিসা এবং টিএন ভিসাধারী পেশাজীবীরাও এতে অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি১ ভিসা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষায়িত কর্মীদের ই-৩ ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় থাকবে। তবে নিয়ম চূড়ান্ত করার আগে দুই মাস জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাবের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ করেছে। চাকরি শেষ হলে এইচ-১বি ও আরও কিছু অস্থায়ী কর্ম ভিসাধারীকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

ডিএইচএসের মতে, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী চলে গেলে একই পদে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক নিয়োগ করা সম্ভব। আবার কোনো নিয়োগকর্তা নতুন করে আবেদন করলে বিদেশি কর্মী পরবর্তীতে কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতেও পারেন।

এইচ-১বি ভিসা কেন গুরুত্বপূর্ণ

১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস এইচ-১বি ভিসা চালু করে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ভিসা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পদে যোগ্য মার্কিন কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয় এই ভিসা।

ডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসার বড় স্পনসর।

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কর্মী ছাঁটাই বা চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাদের হাতে থাকা সময় অনেক কমে যাবে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চাকরি গেলেই ছাড়তে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসায় থাকা বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজার জন্য বর্তমানে পাওয়া ৬০ দিনের সুযোগ হারাতে পারেন। ফলে চাকরি শেষ হওয়ার পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে তাদের।

বাতিল হতে পারে ৬০ দিনের সুযোগ

২০১৭ সাল থেকে এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু রয়েছে। চাকরি হারানোর পর এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রয়োজন হলে বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল ছাড়ানোর মতো বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সময়ও পান।

তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই সুযোগ বাতিল হতে পারে। এতে চাকরি হারানোর পর বিদেশি কর্মীদের ওপর দ্রুত দেশ ছাড়ার চাপ তৈরি হবে।

আরও যেসব ভিসাধারী প্রভাবিত হবেন

প্রস্তাবটি শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য নয়। আরও কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্ম ভিসাধারী এর আওতায় পড়বেন।

এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের ই-১ ভিসা, বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালকদের ই-২ ভিসা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের এল-১ ভিসা। এছাড়া বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ও-১ ভিসা এবং টিএন ভিসাধারী পেশাজীবীরাও এতে অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি১ ভিসা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষায়িত কর্মীদের ই-৩ ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় থাকবে। তবে নিয়ম চূড়ান্ত করার আগে দুই মাস জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাবের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ করেছে। চাকরি শেষ হলে এইচ-১বি ও আরও কিছু অস্থায়ী কর্ম ভিসাধারীকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

ডিএইচএসের মতে, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী চলে গেলে একই পদে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক নিয়োগ করা সম্ভব। আবার কোনো নিয়োগকর্তা নতুন করে আবেদন করলে বিদেশি কর্মী পরবর্তীতে কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতেও পারেন।

এইচ-১বি ভিসা কেন গুরুত্বপূর্ণ

১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস এইচ-১বি ভিসা চালু করে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ভিসা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পদে যোগ্য মার্কিন কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয় এই ভিসা।

ডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসার বড় স্পনসর।

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কর্মী ছাঁটাই বা চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাদের হাতে থাকা সময় অনেক কমে যাবে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।