গিনিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০, আহত ২২
- আপডেট সময় : ১২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৭১২ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কোনাক্রির গিবেসেয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপটি এতটাই বিশাল ছিল যে এটি অনায়াসে একটি বহুতল ভবন চাপা দিতে পারত।
প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ ধস
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এতে বিশাল আবর্জনার স্তূপটি নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে স্তূপটির বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে আশপাশে থাকা মানুষজন আবর্জনার নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় উদ্ধারকারী দল। ধসে পড়া আবর্জনার নিচে জীবিত মানুষ ও মরদেহের সন্ধানে এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একের পর এক মরদেহ বের করে আনেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আগেই ছিল ধসের আশঙ্কা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ওই আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল গিনি সরকার। তবে সরকারের সেই ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ আবর্জনার স্তূপটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
পাঁচ সন্তান হারালেন মা
দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়ে শোকের মাতম চলছে পুরো এলাকায়। সিরে দিয়োলো নামে এক নারী এ ঘটনায় তাঁর পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন।
শোকাহত ওই নারী বলেন, “আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। ঈশ্বরের ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।”
তাঁর এই বক্তব্য দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একই সঙ্গে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, অবকাঠামোয় পিছিয়ে গিনি
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ গিনি বিশ্বের অন্যতম বড় বক্সাইট মজুতের অধিকারী। দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লৌহ আকরিকের মজুতও রয়েছে। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও দেশটির অবকাঠামো এখনো দুর্বল।
দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে রাজধানী কোনাক্রিসহ বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গিনির জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ। দেশটির প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যস্তূপ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স





















