০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ

আবুবকর ছিদ্দিক, বান্দরবান
  • আপডেট সময় : ১২:১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ লোকদেখানো কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে দেখা দিয়েছে ব্যাপকআলোচনা-সমালোচনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে প্রকল্পের অগ্রিম চেক দ্রুততার সঙ্গে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি স্কিমের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের কার্যক্রম মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণের স্থান নির্ধারণ, সময়সূচি প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোও এককভাবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার অধিকাংশ ক্রীড়া সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবি, পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার অভাবে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে খেলোয়াড়দের কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন সম্ভব হবে না; বরং সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এতে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা শুধু বাস্তবায়নের (এক্সিকিউশন) কাজ করছি।

অন্যদিকে জেলা পরিষদ সদস্য ও ক্রীড়া বিষয়ক কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তড়িঘড়ি করে কিছু করা হচ্ছে না। জুলাই থেকে অর্থবছর শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগে থেকেই একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরাসরি তদারকিতে সব সদস্যকে নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,দেখে বলতে পারব। তবে বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো হয়নি।
অন্য খেলাগুলোকে প্রশিক্ষণের আওতায় না আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই বলেম এই বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না কাছ থেকে শুনেছি এ বিষয়টি আমি যাচাই-বাছাই করে দেখছি।

কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয় জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক জাবেদ রেজা, ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মো. ইসলাম কোম্পানী, জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের টিপু, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের রফিকুল আলম মামুন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য থুইসিং প্রু লুবুকে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গঠিত কমিটির অধিকাংশ সদস্যই জানেন না জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে কোনো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না। এমনকি থানচি ও আলীকদমে ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরুর বিষয়েও তারা অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জুন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০ম জেলা পরিষদের ৮ম মাসিক সভায় জেলার ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় বাজেট সংকট থাকায় জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মাকে আহ্বায়ক এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ক্রীড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ লোকদেখানো কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে দেখা দিয়েছে ব্যাপকআলোচনা-সমালোচনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক দিন আগে প্রকল্পের অগ্রিম চেক দ্রুততার সঙ্গে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি স্কিমের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের কার্যক্রম মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণের স্থান নির্ধারণ, সময়সূচি প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোও এককভাবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার অধিকাংশ ক্রীড়া সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবি, পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার অভাবে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে খেলোয়াড়দের কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন সম্ভব হবে না; বরং সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এতে জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা শুধু বাস্তবায়নের (এক্সিকিউশন) কাজ করছি।

অন্যদিকে জেলা পরিষদ সদস্য ও ক্রীড়া বিষয়ক কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তড়িঘড়ি করে কিছু করা হচ্ছে না। জুলাই থেকে অর্থবছর শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগে থেকেই একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরাসরি তদারকিতে সব সদস্যকে নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,দেখে বলতে পারব। তবে বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো হয়নি।
অন্য খেলাগুলোকে প্রশিক্ষণের আওতায় না আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই বলেম এই বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না কাছ থেকে শুনেছি এ বিষয়টি আমি যাচাই-বাছাই করে দেখছি।

কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয় জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক জাবেদ রেজা, ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মো. ইসলাম কোম্পানী, জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের টিপু, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের রফিকুল আলম মামুন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য থুইসিং প্রু লুবুকে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গঠিত কমিটির অধিকাংশ সদস্যই জানেন না জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে কোনো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না। এমনকি থানচি ও আলীকদমে ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরুর বিষয়েও তারা অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জুন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০ম জেলা পরিষদের ৮ম মাসিক সভায় জেলার ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় বাজেট সংকট থাকায় জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মাকে আহ্বায়ক এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।