কেশম দ্বীপে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত ও জব্দের দাবি ইরানের
- আপডেট সময় : ০২:২৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের আকাশসীমায় একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করে অক্ষত অবস্থায় জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ড্রোনটি ধ্বংস করতে প্রচলিত আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর এই অভিজাত শাখা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা।
ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিতে ড্রোন নিয়ন্ত্রণের দাবি
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরের দিকে কেশম দ্বীপের ওপর দিয়ে একটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ সিরিজের ড্রোন উড়তে দেখে আইআরজিসির সদস্যরা। পরে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে সফলভাবে ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
সংস্থাটির দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার পর অক্ষত অবস্থায় জব্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো একই ধরনের একটি মার্কিন ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করল ইরানের সামরিক বাহিনী।
কী কাজে ব্যবহার হয় এমকিউএম-১৭০ ড্রোন
এমকিউএম-১৭০ সিরিজের ড্রোন মূলত সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা, উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা আর্টিলারির প্রশিক্ষণে এ ধরনের ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এটি টার্গেট ড্রোন বা বিকল্প প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সময় এ ধরনের ড্রোনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণ করা হয়।
এর আগেও ড্রোন জব্দের দাবি
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আইআরজিসি নৌবাহিনী দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন এমকিউএম-১৭০ ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। পরে সেটিকে অক্ষত অবস্থায় অবতরণ করানো হয়।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, পারস্য উপসাগরীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন এলাকায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে ড্রোনটি মোতায়েন করা হয়েছিল।
এ ছাড়া গত ২৯ অক্টোবর ইরানি গণমাধ্যমে আরও একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন আটকে দিয়ে ধ্বংস করার খবর প্রকাশিত হয়। তবে এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের দাবির সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।
ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের
এদিকে ড্রোন জব্দের বিষয়ে ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।
ফলে ড্রোনটির প্রকৃত অবস্থা এবং ইরানের অভিযানের বিষয়ে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
এ কারণে জলপথটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। সাম্প্রতিক ড্রোনসংক্রান্ত ঘটনাগুলো সেই উত্তেজনাকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং নৌচলাচল নিয়ে বিরোধ পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই নতুন করে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত ও জব্দের দাবি সামনে এলো।



























