পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনা ইরানের জনগণের দাবি: তেহরানের খতিব
- আপডেট সময় : ০১:২১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
নতুন পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং পুরো জাতির প্রত্যাশা বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের জুমার নামাজের ভারপ্রাপ্ত খতিব জাভাদ হাজ আলি আকবারি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তেহরানে জুমার নামাজের খুতবায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা এবং ইরানের পারমাণবিক নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে কথা বলেন তিনি। খবর মেহেরের।
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আহ্বান নিয়ে সতর্কবার্তা
খুতবায় জাভাদ হাজ আলি আকবারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো কিংবা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হলে ইরানের অসতর্ক হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন আলোচনার কথা বলে কিংবা কোনো বার্তা পাঠায়, তখন অনেক সময় এর আড়ালে বড় ধরনের বিপদ বা ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি যুদ্ধের হুমকির চেয়েও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তার মতে, কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইরানকে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত হবে না।
পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে জনগণ
ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি প্রসঙ্গে হাজ আলি আকবারি বলেন, এটি কোনো তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত কিংবা আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া নয়। বরং জাতীয় পরিপক্বতা ও সচেতনতার মধ্য দিয়ে এ দাবি সামনে এসেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের প্রতিপক্ষরা দেশটির সব অলঙ্ঘনীয় সীমা অতিক্রম করেছে। ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তাঁর ঘনিষ্ঠদের হত্যার ঘটনা এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি।
হাজ আলি আকবারির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আচরণের কারণে ইরানি জনগণ বছরের পর বছর ধরে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই জনগণের মধ্যে পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি
তেহরানের এই খতিব বলেন, পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি মূলত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিপক্ষকে ভবিষ্যতে আগ্রাসী পদক্ষেপ থেকে নিবৃত্ত করার একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার ইরানি জাতির রয়েছে। পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার দাবিও সেই অধিকার ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
তাঁর ভাষায়, ‘এটি পুরো জাতির ইচ্ছার প্রতিফলন। একে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।’
৭০ শতাংশের বেশি মানুষের সমর্থনের দাবি
বক্তব্যে অতীতে পরিচালিত কয়েকটি জরিপের তথ্য উল্লেখ করেন হাজ আলি আকবারি। তিনি দাবি করেন, এসব জরিপে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
তিনি বিষয়টিকে একটি জাতীয় দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের এ বিষয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান।
তাঁদের নিজস্ব প্রস্তাব ও পরিকল্পনা তুলে ধরারও অনুরোধ করেন তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা চালানোর আহ্বান জানান।
হাজ আলি আকবারির মতে, এসব পর্যালোচনা থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনির কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক নীতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

























