কুষ্টিয়ায় পাকা করে সিলগালা পীর শামীমের কবর
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮৮২ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের কবর পাকা করে সিলগালা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের সহায়তায় ইট ও সিমেন্ট দিয়ে কবরটি ঢালাই করে দেন।
পরিবারের দাবি, ভবিষ্যতে যেন কেউ কবর খুঁড়ে মরদেহ নিয়ে যেতে না পারে, সে জন্যই কবরটি পাকা করা হয়েছে।
কবর খুঁড়ে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে শামীমের কবরটি পাকা করা হয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় কবরস্থান থেকে শামীমের মরদেহ তুলে নিয়ে যান তাঁর ভক্তরা। শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন স্বজনেরা। পরে তারা কবরস্থানে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর শামীমের দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে মাটিচাপা দেওয়া একটি কবরের সন্ধান পান পরিবারের সদস্যরা।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তে মরদেহ ফের দাফন
কবর থেকে মরদেহ তুলে দরবারে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর দরবার প্রাঙ্গণ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি আগের পারিবারিক কবরস্থানে ফিরিয়ে এনে পুনরায় দাফন করা হয়।
লাশ অবমাননার অভিযোগে মামলা
মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাশ অবমাননার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করা হয়।
তবে এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
‘আর যেন লাশ নিয়ে টানাটানি না হয়’
কবর পাকা করার বিষয়ে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বলেন, আর যেন কেউ কবর খুঁড়ে লাশ তুলতে না পারে, সে জন্য কবরটি পাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লাশ নিয়ে যেন আর টানাটানি না হয়, এজন্য ইট ও সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে কবরটি সিলগালা করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, শামীমের ভাইয়েরা কবরটি পাকা করে দিয়েছেন। লাশ নিয়ে যেন বারবার টানাটানি না হয়, এজন্যই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হামলায় নিহত হন শামীম
এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে তিনি নিহত হন।
পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় নিহত শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।



























