এই লড়াই জনগণের মুক্তির লড়াই: ড. শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৩:২১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এই লড়াই জনগণের মুক্তির লড়াই। এটি ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির লড়াই। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও স্বাধীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরভবনের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়াগামী ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে অংশ নিতে যাওয়ার পথে তিনি সেখানে বক্তব্য দেন।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এসব পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াতের আমির বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় হস্তক্ষেপ এবং প্রভাব বিস্তার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করতেই এই লড়াই। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এই লড়াইয়ে আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন তো?’
তার এ প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা হাত নেড়ে সমর্থন জানান।
সহস্রাধিক গাড়ির বহরে লংমার্চ
আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগামীর বাংলাদেশ গড়ব। একটি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ব, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব।’
ভাঙ্গা পৌরভবনের সামনে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে প্রায় তিন মিনিট বক্তব্য দেন তিনি। এরপর আবার খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
এদিন তার সফরসঙ্গী হিসেবে সহস্রাধিক গাড়ির বহরে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অংশ নিতে দেখা যায়। এসব গাড়িতে দলীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার ছিল। লংমার্চকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। এ সময় নারী-পুরুষসহ হাজার হাজার মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে তাদের স্বাগত জানান।
লংমার্চের গাড়িবহর ভাঙ্গা অতিক্রম করার সময় মহাসড়কের দুই পাশের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে ওই সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
ভাঙ্গায় ১১ দলীয় জোটের পক্ষে কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদর উদ্দিন আহমেদ এবং ভাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সারোয়ার হোসেন।


























