০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ৮ সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে আটটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে আগে থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের বেতন নির্ধারণ, পেনশন, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে নতুন নিয়ম অনুসরণ করা হবে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।

চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন নির্ধারণে নতুন নিয়ম

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল রয়েছে, তাদের বেতন নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। তবে এ জন্য সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি সংশোধন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। নতুন নিয়ম অনুসারে, ১ জুলাই থেকে প্রাপ্য বেতন ও প্রযোজ্য ভাতাদি দেওয়া হবে। তবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অংশটি এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।

অন্যদিকে, ১ জুলাইয়ের পর চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ পাওয়া বা ভবিষ্যতে নিয়োগ পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের বেতন নির্ধারণে অবসরের অব্যবহিত আগে প্রাপ্ত মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হবে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ওই গ্রেড ও ধাপের জন্য নির্ধারিত বেতন চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন হিসেবে গণ্য হবে।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সম্পাদিত চুক্তিতে উল্লেখ করা বেতন কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রেও বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে কী বলা হয়েছে?

প্রজ্ঞাপনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন থেকে নির্ধারিত গ্রস পেনশন বাদ দেওয়া হবে না। কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের পেনশনের অঙ্ক এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন থাকলে সেটিও বাদ যাবে না।

তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদকালে ওই চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, চুক্তিভিত্তিক চাকরির সময়কাল বিবেচনায় অতিরিক্ত এসব আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন না সংশ্লিষ্টরা।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নন—এমন ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা হবে। পরে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।

আগের প্রজ্ঞাপন ও আদেশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত

অর্থ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপনে আগের নির্দেশনা সম্পর্কেও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের সব আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।

এ ছাড়া বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলোও প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮ সিদ্ধান্ত একনজরে

১. আগের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন: চুক্তির মেয়াদ বহাল থাকলে চুক্তি সংশোধন করে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ।

২. নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন: অবসরের আগে প্রাপ্ত মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ; বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার বা চুক্তিতে নির্ধারিত বেতন কার্যকর।

৩. পেনশন কর্তন নয়: চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন থেকে গ্রস পেনশন ও প্রযোজ্য বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন বাদ না দেওয়া।

৪. অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত: চুক্তিভিত্তিক চাকরির জন্য ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক ও বর্ধিত পেনশন না দেওয়া।

৫. অন্যান্য ব্যক্তির নিয়োগ: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্যদের বেতন-ভাতার শর্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ।

৬. বিরোধপূর্ণ নির্দেশনা বাতিল: নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের আদেশ ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল; সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশনা বহাল।

৭. পরবর্তী সরকারি আদেশ কার্যকর: চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলো প্রযোজ্য হবে।

৮. আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল: ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি এবং ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করা।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে নতুন কাঠামো স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে চূড়ান্ত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, চুক্তির শর্ত এবং সরকারের নির্ধারিত বিধানের ওপর।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ৮ সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৫:০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে আটটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে আগে থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের বেতন নির্ধারণ, পেনশন, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে নতুন নিয়ম অনুসরণ করা হবে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে এসব সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।

চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন নির্ধারণে নতুন নিয়ম

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল রয়েছে, তাদের বেতন নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। তবে এ জন্য সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি সংশোধন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। নতুন নিয়ম অনুসারে, ১ জুলাই থেকে প্রাপ্য বেতন ও প্রযোজ্য ভাতাদি দেওয়া হবে। তবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অংশটি এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।

অন্যদিকে, ১ জুলাইয়ের পর চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ পাওয়া বা ভবিষ্যতে নিয়োগ পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের বেতন নির্ধারণে অবসরের অব্যবহিত আগে প্রাপ্ত মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হবে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ওই গ্রেড ও ধাপের জন্য নির্ধারিত বেতন চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন হিসেবে গণ্য হবে।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সম্পাদিত চুক্তিতে উল্লেখ করা বেতন কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রেও বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে কী বলা হয়েছে?

প্রজ্ঞাপনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন থেকে নির্ধারিত গ্রস পেনশন বাদ দেওয়া হবে না। কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের পেনশনের অঙ্ক এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন থাকলে সেটিও বাদ যাবে না।

তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদকালে ওই চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, চুক্তিভিত্তিক চাকরির সময়কাল বিবেচনায় অতিরিক্ত এসব আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন না সংশ্লিষ্টরা।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নন—এমন ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা হবে। পরে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।

আগের প্রজ্ঞাপন ও আদেশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত

অর্থ বিভাগের নতুন প্রজ্ঞাপনে আগের নির্দেশনা সম্পর্কেও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের সব আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।

এ ছাড়া বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে, তা সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলোও প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮ সিদ্ধান্ত একনজরে

১. আগের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন: চুক্তির মেয়াদ বহাল থাকলে চুক্তি সংশোধন করে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ।

২. নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন: অবসরের আগে প্রাপ্ত মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ; বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার বা চুক্তিতে নির্ধারিত বেতন কার্যকর।

৩. পেনশন কর্তন নয়: চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন থেকে গ্রস পেনশন ও প্রযোজ্য বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন বাদ না দেওয়া।

৪. অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত: চুক্তিভিত্তিক চাকরির জন্য ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক ও বর্ধিত পেনশন না দেওয়া।

৫. অন্যান্য ব্যক্তির নিয়োগ: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্যদের বেতন-ভাতার শর্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ।

৬. বিরোধপূর্ণ নির্দেশনা বাতিল: নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের আদেশ ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল; সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশনা বহাল।

৭. পরবর্তী সরকারি আদেশ কার্যকর: চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলো প্রযোজ্য হবে।

৮. আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল: ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি এবং ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করা।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে নতুন কাঠামো স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে চূড়ান্ত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, চুক্তির শর্ত এবং সরকারের নির্ধারিত বিধানের ওপর।