নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো, পাসপোর্ট বাতিল
- আপডেট সময় : ০২:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার পর তার ব্রাজিল ত্যাগের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার সব পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি পাসপোর্ট জমা দেননি। এর পরদিন মঙ্গলবার ফেডারেল পুলিশ তার সব ব্রাজিলীয় পাসপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থান
একাধিক কূটনৈতিক ও পরিবারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাভিও বলসোনারো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
তবে কীভাবে এবং কোন পথে তিনি ব্রাজিল ছেড়েছেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, দেশটির সীমান্ত দিয়ে ফ্লাভিওর প্রবেশের কোনো রেকর্ড নেই।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে। তবে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের আইনি প্রক্রিয়া এবং ব্রাজিলের তদন্তের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হন ফ্লাভিও বলসোনারো। প্রতিবেদনে দেওয়া ফল অনুযায়ী, লুলা ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে ফ্লাভিও পান ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ফ্লাভিও। ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়টিকে তিনি ‘চক্রান্ত’ বলেও অভিযোগ করেন। তার এসব বক্তব্য নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।
অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার
ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফ্লাভিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। ফলে একদিকে নির্বাচনে পরাজয়, অন্যদিকে বিচারিক তদন্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান—সব মিলিয়ে ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দেশত্যাগের অভিযোগ এবং পাসপোর্ট বাতিলের পরও কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সূত্র: বিবিসি, ঢাকা পোস্ট।




















