আইজিপির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত: তথ্য উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬২ বার পড়া হয়েছে
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর তিনি নিজেই বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট সরকার
আইজিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইজিপি ইতোমধ্যে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইজিপি যেভাবে বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দেওয়া ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইজিপি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি আগের বক্তব্যে অনড় থাকেননি। বরং নিজের কথার কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, সেটি উপলব্ধি করে বিষয়টি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তথ্য উপদেষ্টার মতে, আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা এবং পরবর্তী অবস্থানকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আইজিপির বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিবেচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফর শেষ করে দেশে ফিরলে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর তাঁর বিবেচনার ওপর। এর আগে সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের অবস্থান
প্রেস ব্রিফিংয়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক সরকারই চাইবে না দেশে গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটুক। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক চরিত্র ও অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বেআইনি নির্দেশ পালন করতে বাধ্য নন সরকারি কর্মচারীরা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারীকে বেআইনি কাজের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা পালন করতে তিনি বাধ্য নন।
সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্পষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ এবং বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।
সব মিলিয়ে, আইজিপির বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে সরকার তাঁর ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা।






















