পরিচ্ছন্নতার জন্য হাসপাতালকে ৭ দিন সময় বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে দেশের সব নাগরিককে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবার আগে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এ কাজে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে শুধু সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে পুরো নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হোক বা না হোক, সবাই এ দেশের নাগরিক। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।
যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। নাগরিকেরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডাস্টবিন ও গাছের চারা চুরি নিয়ে উদ্বেগ
প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জন্মদিনে গাছ লাগানোর পরামর্শ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও রাজধানীর তাপমাত্রা কমাতে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, নিজের জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। গাছটি বাসায়, স্কুলে অথবা গ্রামের বাড়িতে লাগানো যেতে পারে। গাছগুলো বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও বড় হবে।
রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। বর্তমানে সেসব জায়গার অনেকটিতে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।
তিনি বলেন, বেশি করে গাছ লাগানো হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। গাছের সংখ্যা বাড়লে মানুষ স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারবে এবং শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।
দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সবুজায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে সম্মিলিতভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।



























