উত্তরায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশত
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর উত্তরায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজলক্ষ্মী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে ১৯ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
পঞ্চম দিনের মতো সড়ক অবরোধের চেষ্টা
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন পোশাক শ্রমিকরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানা এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কয়েকটি স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন।
শ্রমিকরা কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট এবং জসিমউদ্দিনের হলি ল্যাব মোড়ে সমবেত হন। পরে বেলা ১১টার দিকে তারা রাজলক্ষ্মী-সংলগ্ন উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কে একত্রিত হন।
সেখান থেকে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা করেন। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের লাঠিচার্জ
প্রত্যক্ষ ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সদস্যরা আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা অন্তত ৫০।
এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে আহত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের আঘাতের ধরন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগে থেকেই মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ
শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তরা এলাকার আজমপুর, রাজলক্ষ্মী ও বিএনএস সেন্টার এলাকায় আগে থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের এপিসি (আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) ও জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের মধ্যে নতুন করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। শ্রমিকদের দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানা যাবে।




















