০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা, সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি

আবুবকর ছিদ্দিক, বান্দরবান
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬১৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবানে দুই মাসের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা দিয়েছেন সদর হাসপাতালের কর্মচারীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সোমবারের মধ্যে বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর না হলে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে হাসপাতালের সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এ ঘটনায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বেতন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের ক্ষোভ

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, সোমবার সকালে তাঁরা নিজ নিজ কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় শুভাষ দাশের নেতৃত্বে সদর হাসপাতালের একদল কর্মচারী কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, কয়েকজন নারী কর্মচারী তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুর্গাপূজার আগে বেতন-বোনাসের দাবি

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শুভাষ দাশ জানান, গত দুই মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সহকারী সিভিল সার্জনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শুভাষ দাশ বলেন, কয়েকদিন পর তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ অবস্থায় বেতন ও বোনাস না পেলে পরিবার নিয়ে উৎসব উদযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, সোমবারের মধ্যে সব কর্মচারীর বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর করতে হবে। অন্যথায় মঙ্গলবার থেকে বান্দরবান সদর হাসপাতালের সব সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বেতন বন্ধের কারণ জানাল স্বাস্থ্য বিভাগ

এ বিষয়ে বান্দরবানের ডেপুটি সিভিল সার্জন চিকিৎসক দিলীপ কুমার দেবনাথ বলেন, সিভিল সার্জনের যোগদান ও দাপ্তরিক জটিলতার কারণে কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে কবে নাগাদ কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।

হাসপাতালের সেবা নিয়ে উদ্বেগ

দুই মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে মঙ্গলবার থেকে সব সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারিতে রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তাই বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত সমাধান এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বান্দরবানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা, সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানে দুই মাসের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা দিয়েছেন সদর হাসপাতালের কর্মচারীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সোমবারের মধ্যে বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর না হলে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে হাসপাতালের সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এ ঘটনায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বেতন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের ক্ষোভ

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, সোমবার সকালে তাঁরা নিজ নিজ কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় শুভাষ দাশের নেতৃত্বে সদর হাসপাতালের একদল কর্মচারী কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, কয়েকজন নারী কর্মচারী তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুর্গাপূজার আগে বেতন-বোনাসের দাবি

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শুভাষ দাশ জানান, গত দুই মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সহকারী সিভিল সার্জনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শুভাষ দাশ বলেন, কয়েকদিন পর তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ অবস্থায় বেতন ও বোনাস না পেলে পরিবার নিয়ে উৎসব উদযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, সোমবারের মধ্যে সব কর্মচারীর বেতনের ফাইলে স্বাক্ষর করতে হবে। অন্যথায় মঙ্গলবার থেকে বান্দরবান সদর হাসপাতালের সব সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বেতন বন্ধের কারণ জানাল স্বাস্থ্য বিভাগ

এ বিষয়ে বান্দরবানের ডেপুটি সিভিল সার্জন চিকিৎসক দিলীপ কুমার দেবনাথ বলেন, সিভিল সার্জনের যোগদান ও দাপ্তরিক জটিলতার কারণে কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে কবে নাগাদ কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।

হাসপাতালের সেবা নিয়ে উদ্বেগ

দুই মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে মঙ্গলবার থেকে সব সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারিতে রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তাই বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত সমাধান এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।