০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারপ্রধান হিসেবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ ও দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানান।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার

মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা থেকেই সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়। আরও কিছু বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। নিজের অবস্থান থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবার অবদান

দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে বিবেচনায় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’

নির্যাতনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পার্থক্য ছিল না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। নিজের ক্ষমতার মধ্যে থেকে মানুষের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।

সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা হিন্দু নেতাদের

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। বর্তমানে তাঁদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্য, বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি—সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তাঁরা।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন যারা

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন সভায় অংশ নেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার

আপডেট সময় : ০৫:১৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সরকারপ্রধান হিসেবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ ও দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানান।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার

মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা থেকেই সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়। আরও কিছু বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। নিজের অবস্থান থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবার অবদান

দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে বিবেচনায় নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’

নির্যাতনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পার্থক্য ছিল না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। নিজের ক্ষমতার মধ্যে থেকে মানুষের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।

সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা হিন্দু নেতাদের

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। বর্তমানে তাঁদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্য, বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি—সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তাঁরা।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন যারা

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন সভায় অংশ নেন।