মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্প-কারখানায় সংকটের আগের মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিল্প-কারখানায় মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় দেশের ২১টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টার সভা শেষে ব্যবসায়ী নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
মঙ্গলবার রাত থেকে সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস
সভা শেষে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জ্বালানি সংকটে কমবেশি ভুগছেন। শিল্প-কারখানাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
তিনি জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরির আগের অবস্থায় সরবরাহ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা।
ফজলুল হক বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে শিল্পের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
বিদ্যুৎ-গ্যাসে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সভায় কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এতে বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং পরে আরও দুটি এফএসআরইউ স্থাপনের কাজ করছে। ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ-এর কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৫০ গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে
মধ্যমেয়াদে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। এসব কাজ শেষ হলে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া এফএসআরইউর পাশাপাশি ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল ও নতুন গ্যাসলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার সমন্বিত ব্যবহারের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিল্পায়নে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে এগোবে সরকার
মাহদী আমিন বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নেবে। শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
তিনি বলেন, আগের সময়ে তৈরি হওয়া পুঞ্জিভূত সমস্যাগুলোর পূর্ণাঙ্গ সমাধান একদিন, এক মাস বা এক বছরে সম্ভব নয়। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা রয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় সেই পরিকল্পনাই ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি সমস্যা থেকে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের মতবিনিময় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।























